গায়ক জাহিদ অন্তুর জামিন মঞ্জুর, যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের শুনানি সম্পন্ন
জাহিদ অন্তুর জামিন মঞ্জুর, যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়

গায়ক জাহিদ অন্তুর জামিন মঞ্জুর, যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত

ঢাকার ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলায় গায়ক আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তুর জামিন আবেদন আদালত মঞ্জুর করেছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই ছাত্রীর সঙ্গে জাহিদ অন্তুর প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা পরবর্তীতে বিচ্ছেদে রূপ নেয়।

মামলার পটভূমি ও আদালতের কার্যক্রম

গতকাল বুধবার আদালত জাহিদ অন্তুকে কারাগারে প্রেরণ করেন, এবং আজ বৃহস্পতিবার জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, জাহিদ কারাগারে থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই এই জামিন শুনানি সম্পন্ন হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'আমরা আসামির জামিন চেয়ে আবেদন করি। মামলার বাদী অভিযোগের সঙ্গে সহায়ক কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি। এ জন্য আদালত আমাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার বিস্তারিত বিবরণ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গিটার ক্লাসের মাধ্যমে আসামি আবু জাহিদের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, কিন্তু পরবর্তীতে বিচ্ছেদ ঘটে এবং যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কথা বলে আসামি জাহিদ ভুক্তভোগীকে তাঁর বাসায় যেতে বলেন। ৩১ মার্চ বিকেলে গুলশানে জাহিদের ভাড়া বাসায় যান মামলার বাদী। সেখানে যাওয়ার পর আসামি জাহিদ বাদীকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন এবং যৌন নিপীড়ন করে শ্লীলতাহানি ঘটান বলে অভিযোগ করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, যৌন নিপীড়নে বাধা দিলে জাহিদ তাঁকে মারধর করেন। পরে তিনি সুকৌশলে ওই বাসা থেকে বের হয়ে নিকটাত্মীয়দের সহায়তায় কুর্মিটোলা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এই ঘটনার পর গতকাল গুলশান থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।

আদালতের সিদ্ধান্তের প্রভাব

আদালতের এই সিদ্ধান্তে জাহিদ অন্তু সাময়িকভাবে মুক্তি পেলেও মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনজীবী নজরুল ইসলামের মতে, বাদীর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে জামিন মঞ্জুর হয়েছে, যা মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই ঘটনা সমাজে যৌন নিপীড়ন ও নারী নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে, এবং আদালতের সিদ্ধান্ত আইনি প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৯ এপ্রিল নির্ধারিত রয়েছে, যেখানে আরও বিস্তারিত আলোচনা ও সাক্ষ্য উপস্থাপন হতে পারে।