ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় বিচার চেয়ে মানববন্ধন, জাহের আলভীর ফেসবুক পোস্টে বিতর্ক
ইকরার আত্মহত্যায় মানববন্ধন, জাহের আলভীর পোস্টে বিতর্ক

ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় বিচার চেয়ে মানববন্ধন, জাহের আলভীর ফেসবুক পোস্টে বিতর্ক

ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা গত শনিবার আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইকরার মৃত্যুর পরপরই একজন সহকর্মী অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে জাহের আলভীর কথিত প্রেমের সম্পর্কের কথা সামনে আসে। ইকরার মা রেবেকা সুলতানা ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিবাহবহির্ভূত এই সম্পর্কের জেরেই ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

'জাস্টিস ফর ইকরা' প্ল্যাটফর্মের মানববন্ধন

ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় সঠিক তদন্ত এবং জাহের আলভী ও সংশ্লিষ্ট অভিনেত্রীর বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছে 'জাস্টিস ফর ইকরা' নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। আজ বুধবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) ফটকের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা ইকরার জন্য ন্যায়বিচার দাবি করে 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস ফর ইকরা' স্লোগান দিতে থাকেন এবং জাহের আলভী ও ওই অভিনেত্রীকে বর্জনের ডাক দেন। মানববন্ধনে ইকরার বান্ধবী ও অনেকে অংশগ্রহণ করেন, যাঁরা আলভীর কথিত প্রেমের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ইকরার আত্মহত্যার কারণ হিসেবে এটিকে দায়ী করেন।

জাহের আলভীর ফেসবুক পোস্টে সমালোচনার ঝড়

এদিকে জাহের আলভী একটি ফেসবুক পোস্টে ইকরাকে সম্বোধন করে আবেগঘন বার্তা দেন, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টে তিনি ইকরাকে 'ইকলি' নামে ডেকে প্রশ্ন তোলেন এবং শোক প্রকাশ করেন। তবে এই পোস্ট সহানুভূতির বদলে সমালোচনার মুখে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী আলভীর বক্তব্যকে 'আবেগের আড়ালে দায় এড়ানোর চেষ্টা' হিসেবে আখ্যা দেন এবং সাম্প্রতিক বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে পোস্টের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সমালোচনা বাড়তে থাকায় আলভী নিজের পোস্টের মন্তব্যের ঘর বন্ধ করে দেন, কিন্তু পোস্টটি স্ক্রিনশট আকারে শেয়ার হতে থাকে।

বিভিন্ন পেজ ও প্রোফাইলে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকে লিখেছেন, ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে সামনে এনে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার একটি অংশ যুক্তি দেয় যে শোক প্রকাশের অধিকার সবার আছে এবং সেটিকে কঠোরভাবে বিচার করা অনুচিত। এই বিতর্ক ইকরার মৃত্যু ও তার পরবর্তী ঘটনাগুলোকে আরও জটিল করে তুলছে, যেখানে ন্যায়বিচার ও দায়িত্বের প্রশ্নগুলো সামনে আসছে।