শামীম হাসান সরকারের বন্ধু তাসনুভা তিশার সঙ্গে অভিনয়ে আড্ডা ও প্রশংসার অভাব নিয়ে কথা
অভিনেতা শামীম হাসান সরকার সম্প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মী তাসনুভা তিশার সঙ্গে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, শুটিংয়ে পুরোনো বন্ধুকে পাওয়া গেলে অভিনয়ে একটি আলাদা কমফোর্ট জোন তৈরি হয়, যা কাজের পরিবেশকে আরও আনন্দময় করে তোলে। আড্ডা, গল্প আর মাস্তির মাধ্যমে শুটিং করার সময়গুলো দ্রুত কেটে যায় বলে তিনি জানিয়েছেন।
বন্ধুত্বের শুরু ও শিকড়ে ফেরার গল্প
শামীম হাসান সরকার ও তাসনুভা তিশার বন্ধুত্ব শুরু হয় আট বছর আগে একটি নাটকে অভিনয় করার মাধ্যমে। এরপর তাঁরা জুটি হিসেবে অনেক নাটকে একসঙ্গে কাজ করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের একসঙ্গে দেখা না গেলেও এবার ঈদের নাটকে শেকড়ে ফিরেছেন। নাটকটি পরিচালনা করেছেন সকাল আহমেদ, এবং এটি মানুষের শিকড় চেনানোর গল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। শামীম বলেন, দিন শেষে শিকড়েই ফিরতে চায় মানুষ, এবং এই নাটক সেই অনুভূতিকে তুলে ধরে।
প্রশংসার অভাব ও তিশার ব্যতিক্রমী ভূমিকা
শামীম হাসান সরকার তাঁর অভিনয় জীবনে একটি কষ্টের দিক উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকের সঙ্গেই নিয়মিত অভিনয় করলেও সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রশংসা বা সমালোচনা খুব কম পান। নিজে সিনিয়রসহ অন্যের অভিনয়ের প্রশংসা করলেও তিনি শিল্পীদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পান না, যা তাঁর মতে ভালো কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, একজন শিল্পী যখন সহশিল্পীকে বলেন "তোমার অভিনয় ভালো হয়েছে" বা কোনো খুঁত ধরেন, সেটা উন্নতির পথে সহায়তা করে। তবে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কারও প্রশংসা করতে চায় না বলে তিনি মনে করেন। এখানেই তাসনুভা তিশা ব্যতিক্রম, কারণ প্রতিটি দৃশ্যের পর তিনি শামীমের অভিনয়ের প্রশংসা করেন, যা মনের অজান্তেই ভালো লাগা তৈরি করে।
পুরোনো বন্ধুর মূল্য ও ফিডব্যাকের গুরুত্ব
শামীম হাসান সরকার পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, শুটিংয়ে পুরোনো বন্ধুর দাম অনেক বেশি, কারণ তারা শুরু থেকে একসঙ্গে কাজ করে জায়গা করে নিয়েছে এবং প্রত্যেকের অভিনয়ের উন্নতি সম্পর্কে জানে। উদাহরণ হিসেবে তিনি তিশার কথা উল্লেখ করেন, যিনি একবার শুটিং শেষে বলেছিলেন, "তোর রোমান্টিক দৃশ্যের অভিনয় আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে"।
এই ধরনের ফিডব্যাক শিল্পী নিজে থেকে সব সময় বুঝতে পারে না, তাই এটি খুবই প্রয়োজনীয়। শামীম মনে করেন, পুরোনো সহকর্মীকে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার, এবং তিনি চান তিশা নিয়মিত কাজ করুক, যাতে তাঁরা ভালো গল্পে একসঙ্গে অভিনয় করতে পারেন।
