অভিনেতা আলভীর প্ররোচনায় স্ত্রীর আত্মহত্যা, পল্লবী থানায় মামলা
ছোটপর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভী ও তার মায়ের প্ররোচনায় স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার মৃত ইকরার পিতা কবির হায়াত খান রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা করেছেন। মামলার আসামি হিসেবে অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে জাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মিরপুরে মরদেহ উদ্ধার
গত শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার এভিনিউ-২ এর ১৭ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশের তদন্ত চলছে এবং প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার সন্দেহ করা হচ্ছে।
দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন
মামলার এজাহারে ভিকটিমের পিতা উল্লেখ করেন, জাহের আলভীর সঙ্গে তার মেয়ে ইকরার ২০১৩ সালে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ৫ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর জাহের আলভী তার মা শিউলীর প্ররোচনায় স্ত্রী ইকরাকে মানসিক নির্যাতন করতেন। ভিকটিমের পিতা বিষয়টি জানতে পেরে শিউলীর মাধ্যমে পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করলেও শিউলী তাদের কথায় কর্ণপাত করেননি।
পরকীয়া ও মানসিক নির্যাতন
প্রায় ২ বছর আগে ইকরা জানতে পারেন যে তার স্বামী আলভী অজ্ঞাতনামা এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত। এ ঘটনায় স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ইকরাকে তাদের জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে প্ররোচনা করেন জাহের আলভী ও তার মা শিউলী। এমনকি ভিকটিমকে গালিগালাজ, অপমান ও বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেন।
আলভী তার স্ত্রীকে প্রায়ই বলতেন, ‘তুই মরলেও আমার কিছু যায় আসে না। তোর যা মন চায়, তুই কর।’ একপর্যায়ে মামলার আসামিদের অপমান, অবহেলা ও উসকানিমূলক কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ইকরা।
পুলিশের বক্তব্য
পল্লবী থানার ওসি একেএম আলমগীর জাহান বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং আসামিরা বর্তমানে পলাতক। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এই ঘটনা ঢাকার বিনোদন জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানসিক নির্যাতন ও আত্মহত্যা প্ররোচনার মতো গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
