‘ব্রিজারটন ৪’–এ ইয়েরিন হা: ঘনিষ্ঠ দৃশ্য থেকে সোফির মানসিক যাত্রা
নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় পিরিয়ড রোমান্স সিরিজ ‘ব্রিজারটন’-এর চতুর্থ মৌসুমের দ্বিতীয় কিস্তি গতকাল রাতে মুক্তি পেয়েছে। এই মৌসুম মুক্তির পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন অভিনেত্রী ইয়েরিন হা। সিরিজে সোফি বেক চরিত্রে অভিনয় করা এই দক্ষ অভিনেত্রী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে খুলে বলেছেন বেনেডিক্ট ও সোফির দুই ভিন্ন ঘনিষ্ঠ দৃশ্য, চরিত্রের জটিল মানসিক যাত্রা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা।
দুই দৃশ্য, দুই অনুভব: আবেগ ও সম্মানের প্রকাশ
চতুর্থ মৌসুমের প্রথম ভাগে ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর, দ্বিতীয় ভাগে বেনেডিক্ট ব্রিজারটন (লুক থম্পসন) ও সোফি বেকের সম্পর্ক পায় তীব্র ও আবেগঘন রূপ। পঞ্চম পর্বের শেষে প্রথম ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে দেখা যায়, সব দ্বিধা ও সামাজিক ভয়ের মধ্যেও তারা একে অপরের প্রতি আকর্ষণে আত্মসমর্পণ করে। সোফির গর্ভধারণের আশঙ্কা, ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়—সব মিলিয়ে দৃশ্যটি ছিল তাড়না ও আবেগে ভরপুর।
ইয়েরিন হা বলেন, এই দৃশ্যে সোফির আত্মনির্ভরতা তুলে ধরা জরুরি ছিল। তিনি নিজেই নিজেকে সামলাতে জানেন, কারও সহায়তার প্রয়োজন হয় না—এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ফুটিয়ে তুলতেই নির্মাতারা বিশেষ মনোযোগ দেন। অন্যদিকে অষ্টম পর্বে দর্শক দেখেন সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহ। এই দৃশ্যে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মান। সোফির আশঙ্কাকে সম্মান জানিয়ে বেনেডিক্ট তাঁর পাশে থাকেন, ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে কোমলতায়। ইয়েরিনের ভাষায়, প্রথম দৃশ্য ছিল ‘একসঙ্গে কোথাও পৌঁছানোর চেষ্টা’, আর দ্বিতীয়টি ছিল ‘কবিতার মতো মুহূর্ত’।
খোলামেলা স্বীকারোক্তি ও সোফির উদারতা
এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বেনেডিক্ট সোফিকে জানান, তিনি অতীতে আরও সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি সহজ ছিল না। কিন্তু সোফির প্রতিক্রিয়া ছিল বিস্ময়করভাবে সহানুভূতিশীল। ইয়েরিন মনে করেন, সারা জীবন সামাজিক অবস্থান ও পরিচয়ের কারণে ভুল–বোঝাবুঝির শিকার হওয়ায় সোফি চরিত্রটি কাউকে বিচার করতে চান না। তাঁর কাছে ভালোবাসা মানে মানুষ, তার লিঙ্গ বা অতীত নয়। এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই সোফিকে আলাদা করে তোলে এবং দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
ভবিষ্যৎ আশা ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্ব
মৌসুমের শেষে সোফি সমাজে স্বীকৃতি পান। তবু ইয়েরিন চান, ভবিষ্যৎ সিজনগুলোতে সোফির পুরোনো জীবনের সঙ্গে সংযোগ বজায় থাকুক। ‘ডাউনস্টেয়ার্স’ বা গৃহকর্মীদের জগৎ, যেখানে তিনি বেড়ে উঠেছেন, সেই সম্পর্ক, তাঁর সৎবোন পোসির সঙ্গে বন্ধন—এসব যেন হারিয়ে না যায়। তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে সোফির সঙ্গে ব্রিজারটন পরিবারের অন্য নারীদের সম্পর্ক আরও গভীরভাবে ফুটে উঠবে এবং চরিত্রটি আরও সমৃদ্ধ হবে।
প্রথমবার ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করা ইয়েরিন হা স্বীকার করেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারে প্রথম এবং বেশ ভয়ের ছিল। গ্ল্যামার সাময়িকীকে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই ভীষণ নার্ভাস ছিলাম। দৃশ্যটির শুটিং হয়েছিল সকাল নয়টায়; তখনই নিরাভরণ হয়ে শট দিতে হয়েছিল।’ তবে সেই ভয় কাটিয়ে ওঠার পেছনে ছিল নিজের প্রতি একধরনের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতা। ‘আমি মনে করি, ভয় আর অস্বস্তির সীমা পেরোতে না পারলে মানুষ পরিণত হয় না। তাই আমি এটাকে নিজের জন্য একধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি—অভিনেত্রী হিসেবে আরও পরিণত হওয়ার জন্য,’ বলেন তিনি।
চতুর্থ মৌসুমে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ এশীয় একটি পরিবার দেখা গেছে ‘ব্রিজারটন’-এ। সিরিজে কিছু কোরিয়ান ও চীনা সংলাপও যুক্ত হয়েছে। কোরিয়ান-অস্ট্রেলীয় ইয়েরিন হা বলেন, নিজের পরিচয়কে পর্দায় স্বাভাবিকভাবে দেখতে পাওয়া তাঁর কাছে খুব অর্থবহ। তাঁর ভাষ্যে, ‘এই সিরিজে যেটা আমার ভালো লাগে, তা হলো এখানে বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব দেখানো হয় অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই, যেন স্বাভাবিকভাবেই সবাই এ জায়গায় সহাবস্থান করতে পারে।’ এই বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনা সিরিজটিকে আরও আকর্ষণীয় ও বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
