কানি কুশ্রুতি: হিন্দি সিনেমায় ভাষা ও সংস্কৃতির বাধা
মালয়ালম চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ কানি কুশ্রুতি সম্প্রতি হিন্দি সিনেমা জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। অনুভব সিনহা পরিচালিত আদালতভিত্তিক ছবি 'আসসি'তে তিনি পারিমা চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি দিল্লিতে একটি ধর্ষণ মামলায় ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করছেন। এই ছবিতে তাপসী পান্নু আইনজীবী রাভির চরিত্রে উপস্থিত হয়েছেন, যা কানির অভিনয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
ভাষাগত সীমাবদ্ধতা ও সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা
কানি কুশ্রুতি স্পষ্টভাবে তাঁর ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হিন্দি ভাষা পুরোপুরি না জানার কারণে অনেক প্রস্তাবিত চরিত্রে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। 'আমি প্রযোজকদের বলি, দয়া করে আমাকে কাস্ট করবেন না', বলেন কুশ্রুতি। তাঁর মতে, 'আসসি' সিনেমায় তাঁর অভিনীত চরিত্রটি বিশেষভাবে মালয়ালম সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে, যা তাঁর জন্য সহজ ছিল।
অন্য কোনো হিন্দি চলচ্চিত্রে চরিত্রটি উত্তর ভারতের হতে চাইলে তিনি লাইনগুলো শেখা ও বুঝতে অনেক সময় নিতেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, 'আমি দ্রুত হিন্দি শিখতে পারি না। আমি সত্যিকারের মালয়ালি'। এই ভাষাগত চ্যালেঞ্জ তাঁকে হিন্দি সিনেমায় অংশগ্রহণ সীমিত রাখতে বাধ্য করেছে।
ধর্ষণ দৃশ্যের শুটিং ও নারী নিরাপত্তার পরিবর্তন
কানি উল্লেখ করেছেন যে 'আসসি' সিনেমার ধর্ষণ দৃশ্যগুলো শুটিং করা তাঁর ও অন্যান্য অভিনেতাদের জন্য সহজ ছিল না। তবে তিনি মালয়ালম সিনেমার সেটে 'ওমেন ইন' সিনেমা কালেকটিভ গঠনের পর পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। আগে সেখানে খুব কম নারী থাকতেন, সহকারী পরিচালক হিসেবে পাওয়া যেত না এবং মৌলিক সুবিধাও ছিল সীমিত।
বর্তমানে সেটগুলোতে অভ্যন্তরীণ কমিটি রয়েছে, যেখানে নারী কর্মীরা যেকোনো সমস্যা নিয়ে যেতে পারেন। কানি বলেন, 'কিছুটা পরিবর্তন ভয় বা সতর্কতার কারণে এসেছে, যা আদর্শ নয়, তবে ইতিবাচক'। এই পরিবর্তন নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ও সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা
'আসসি' সিনেমায় নারী চরিত্রগুলো ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে এসেছে, যা অনেক ক্লিশে ব্যাপার এড়িয়ে গেছে। কানি মনে করেন, আগের প্রতিশোধমূলক সিনেমাগুলো আজকের দিনে আর প্রাসঙ্গিক নয়। তিনি ভাষাগত সীমাবদ্ধতা ও সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা বিবেচনা করে হিন্দি সিনেমায় অংশগ্রহণ সীমিত রেখেছেন।
তিনি বলেন, হিন্দি সিনেমার জন্য তাঁর দ্রুত মানিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, তাই তিনি সাবধান। পাশাপাশি তিনি নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তার পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। কানির এই সতর্কতা ও দায়বদ্ধতা চলচ্চিত্র শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
