শারীরিক গঠন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি, আইনি পদক্ষেপ নিলেন অভিনেত্রী
শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য, শ্রাবন্তী আইনি পদক্ষেপ নিলেন

শারীরিক গঠন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হয়ে আইনি পদক্ষেপ নিলেন শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি

ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার শারীরিক গঠন ও ওজন বৃদ্ধি নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের শিকার হয়েছেন। মানসিক হেনস্তার অভিযোগ তুলে তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।

কলকাতা পুলিশে অভিযোগ দায়ের ও তদন্ত শুরু

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি ই-মেইলের মাধ্যমে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে তার ওজন বৃদ্ধি ও চেহারার পরিবর্তন নিয়ে একাংশ নেটিজেন নেতিবাচক মন্তব্য করে আসছিলেন, যা অভিনেত্রীর জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।

অভিনেত্রীর প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ প্রকাশ

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি বলেন, ‘আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারলাম না। আমরা শিল্পীরা এমনিতেই সফট টার্গেট। কিন্তু শুধু শিল্পী হিসেবেই নয়, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেও বলছি—এইভাবে দিনের পর দিন নোংরা মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না। আমার চেহারা ও শরীর নিয়ে নেতিবাচক কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু একটু ভেবে দেখা উচিত, কেন আমার চেহারায় পরিবর্তন এসেছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি ‘ঠাকুমার ঝুলি’ নামের একটি ওয়েব সিরিজের কাজ শেষ করেছেন, যেখানে তাকে একজন ঠাকুমার চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে। চরিত্রের প্রয়োজনে প্রায় ১০ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।

চরিত্রের প্রয়োজনে ওজন বৃদ্ধি ও নেটিজেনদের অজ্ঞতা

অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘ঠাকুরমার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তো সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হয়। ঠাকুরমার গড়ন ছিপছিপে নায়িকার মতো হতে পারে না। কিন্তু মানুষ কিছু না জেনেই মন্তব্য করতে ভালোবাসেন। দুঃখের বিষয়, শুধু পুরুষ নয়—এই ধরনের মন্তব্যে মহিলারাও রয়েছেন।’

বর্তমানে সিরিজটির শুটিং শেষ হয়েছে এবং শ্রাবন্তী নিয়মিত শরীরচর্চা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি অনলাইনে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে সাইবার বুলিং ও ব্যক্তিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। শ্রাবন্তী চ্যাটার্জির মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া অনলাইন নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় একটি বলিষ্ঠ বার্তা দিচ্ছে।