প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে একুশে পদক নিলেন ববিতা, উৎসর্গ করলেন জহির রায়হানকে
দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র জগত থেকে দূরে থাকা দেশবরেণ্য অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে এলেন এক বিশেষ অনুষ্ঠানে। ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি গ্রহণ করেন একুশে পদক। পুরস্কার গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথন হয় ববিতার, যা তিনি চমৎকার মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথন ও পুরস্কারের অনুভূতি
বিকেল চারটায় বাসায় ফিরে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ববিতা জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'কেমন আছেন?' উত্তরে তিনি ভালো থাকার কথা জানান এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নেওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেন। ববিতা আরও উল্লেখ করেন যে এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাবার হাত থেকেও পুরস্কার পেয়েছিলেন, যা এই মুহূর্তকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
পুরস্কার গ্রহণের পর ববিতা ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের আবদার মেটাতে সবার সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তোলেন। তিনি মজা করে বলেন, 'ছবি তুলতে তুলতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। অনেক দিন পর এত মানুষের সঙ্গে ছবি তুললাম। ক্লান্ত হলেও মুহূর্তটা ছিল খুবই আনন্দের।' এই ঘটনা তাঁর দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির পর ফিরে আসার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
জহির রায়হানকে একুশে পদক উৎসর্গ
ববিতা তাঁর প্রাপ্ত একুশে পদকটি উৎসর্গ করেছেন বরেণ্য চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'চলচ্চিত্রজগতে এসেছি ১৩ বছর বয়সে। জহির রায়হান আমাকে নিয়ে এসেছেন।' তিনি আরও যোগ করেন যে তখন টাকাপয়সা প্রধান বিবেচ্য বিষয় ছিল না, বরং শিল্পের ক্ষুধা ও মনোযোগ দিয়ে কাজ করাই ছিল মূল লক্ষ্য।
ববিতার মতে, এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও দর্শকের সম্মানই তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, 'তাদের ভালোবাসা পেয়ে একজন ববিতা হয়েছি। সেসবের কারণেও এই পুরস্কার। শ্রদ্ধেয় জহির রায়হান সাহেব আমাকে চলচ্চিত্রের জগতে এনেছেন, তিনি না আনলে আমি এত দূর আসতে পারতাম না। তাই আমার একুশে পদক জহির রায়হানকে উৎসর্গ করছি।'
এ মাসের শুরুতে সরকার একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করে এবং বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে পদক তুলে দেওয়া হয়। ববিতার এই উপস্থিতি ও তাঁর উৎসর্গীকৃত পদক চলচ্চিত্র জগতে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
