পিয়া জান্নাতুলের ক্ষোভ: অসহায় বানরের ভিডিওকে ব্র্যান্ডিংয়ের কৌশল হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে
পিয়া জান্নাতুলের ক্ষোভ: অসহায় বানরের ভিডিও ব্র্যান্ডিং বিরুদ্ধে

পিয়া জান্নাতুলের তীব্র প্রতিক্রিয়া: অসহায় প্রাণীর কষ্টকে ব্র্যান্ডিংয়ের হাতিয়ার বানানোয় ক্ষোভ

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, মডেল ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভাইরাল ভিডিও দেখে গভীরভাবে নাড়া পড়েছেন। জাপানের ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানার একটি মা-হারা বানরের বাচ্চার ভিডিওটি ইন্টারনেটে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যেখানে ছোট্ট প্রাণীটি একটি নরম খেলনাকে আঁকড়ে ধরে আছে।

ব্র্যান্ডগুলোর স্বার্থপর মার্কেটিং কৌশলের বিরুদ্ধে সরব হন পিয়া

ভিডিওটি দেখে খারাপ না লেগে পারে না বলে মন্তব্য করেন পিয়া জান্নাতুল। তবে তার ক্ষোভের মূল কারণ হলো, বিভিন্ন ব্র্যান্ড এই অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নিজেদের পণ্যের প্রচার চালাচ্ছে। তিনি তার সামাজিক মাধ্যম পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘একটা ছোট্ট প্রাণী শুধু একটু আদর খুঁজছে, কিন্তু এরপর যেটা হলো, সেটি ভালো লাগেনি। অনেক ব্র্যান্ড ওর নাম ট্যাগ করা শুরু করল, নিজের প্রোডাক্টের সঙ্গে ওর গল্প জুড়ে দিল।’

অভিনেত্রী আরও যোগ করেন, ‘ইমোশনাল কথা লিখে মার্কেটিং করল। মানে একটা বাচ্চা প্রাণীর কষ্টও এখন কনটেন্ট। আমার কাছে এটা খুব স্বার্থপর লাগে। একটা অসহায় প্রাণীর আবেগকে নিজের লাভের জন্য ব্যবহার করা ঠিক না।’

রমজানের প্রেক্ষাপটে মানবিকতার আহ্বান

পবিত্র রমজান মাসের প্রসঙ্গ টেনে পিয়া জান্নাতুল বলেন, ‘এখন তো রমজান। আমরা নিজেরাই রোজা রেখে বুঝি খুদা কী জিনিস। ইফতারের আগে পেটের সেই কষ্টটা তো আমরা ফিল করি। তাহলে ভাবেন, রাস্তায় থাকা প্রাণীগুলো যারা প্রতিদিন না খেয়ে থাকে, তাদের কেমন লাগে?’

তিনি তার ভক্ত ও অনুসারীদের প্রতি মানবিক হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘দয়া করে একটু মানবিক হই। সম্ভব হলে একটু খাবার দিই, একটু খেয়াল রাখি। রমজান আমাদের শুধু নিজের ইবাদত না, অসহায় প্রাণীদের প্রতিও দায়িত্ব মনে করিয়ে দিক।’

ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বের বহুমুখী দিক

এর আগে পিয়া জান্নাতুল সামাজিক মাধ্যমে হিজাব পরিহিত একটি ছবি শেয়ার করে নিজের ধর্মীয় চর্চা ও বিশ্বাস নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইবাদত তার কাছে শুধু অনুভূতি নয়, বরং দায়িত্ব ও চর্চার বিষয়।

তিনি বলেন, ‘আমি যেমন একজন ফ্যাশন মডেল, ঠিক তেমনই একজন পেশাদার আইনজীবীও। আধুনিক চিন্তাভাবনা ও নিজস্ব মতপ্রকাশের পাশাপাশি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করা আমার ব্যক্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

সবশেষে তিনি সবাইকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানান এবং সম্মান বজায় রাখার উপর জোর দেন। পিয়া জান্নাতুলের এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, যা তার বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক সচেতনতাকে ফুটিয়ে তুলছে।