অর্চিতা স্পর্শিয়ার মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতা: 'আলো' প্রদর্শনীতে প্রথম আলোর ধ্বংসাবশেষ দেখে
অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া 'আলো' শীর্ষক প্রদর্শনীতে প্রথম আলোর পুড়ে যাওয়া ভবন দেখে গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। তিনি বলেন, 'আগেও এখানে এসেছি, চরকির অফিসে বই পড়তে। সেই সময়ের দৃশ্যের সঙ্গে বর্তমান অবস্থার পার্থক্য আকাশ-পাতাল। দেশের এত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানকে এভাবে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া শুধু প্রথম আলোর ওপর আক্রমণ নয়; বরং এটি সবার ওপর আঘাত।' সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলার শিকার প্রথম আলোর ভবন নিয়ে আয়োজিত শিল্পী মাহবুবুর রহমানের তৈরি করা এই প্রদর্শনী দেখতে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রদর্শনীতে আবেগতাড়িত অভিনেত্রী
বুধবার দুপুরে প্রদর্শনীতে আসেন অর্চিতা স্পর্শিয়া। প্রদর্শনী দেখে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'এটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা খুবই কঠিন। আমরা সেদিন রাতে টেলিভিশনের সংবাদে সব দেখেছি, সামাজিক মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও দেখেছি। এখন এখানে এসে যখন নিজের চোখের সামনে সবকিছু দেখছি, এত দিন পরও ছাইয়ের গন্ধ, পোড়ার গন্ধ, ধুলো এখনো নাকে আসছে, তখন বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, কষ্টের এবং আতঙ্কের মনে হচ্ছে।'
বিভিন্ন পেশার মানুষের উপস্থিতি
'আলো' শীর্ষক প্রদর্শনী দেখতে আসেন সরকারের প্রতিমন্ত্রী, খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী, কূটনীতিক, অভিনয়শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষেরা। পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, ভাঙা আসবাব ও বইপত্রের ধ্বংসাবশেষ দেখে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। প্রদর্শনী দেখতে বুধবার বিকেলে আরও এসেছিলেন অভিনেতা ও নির্দেশক আফজাল হোসেন, দুপুরে এসেছিলেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।
প্রদর্শনীর সময় ও স্থান
শিল্পী মাহবুবুর রহমানের তৈরি করা এ প্রদর্শনী শুরু হয় ১৮ ফেব্রুয়ারি। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অগ্নিদগ্ধ ভবনটিতে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। এ প্রদর্শনী চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
এই প্রদর্শনীটি শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, বরং একটি জাতীয় ট্র্যাজেডির স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। দর্শকরা এখানে এসে শোক ও সংহতি প্রকাশ করছেন, যা সমাজে শান্তি ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতার গুরুত্বকে তুলে ধরছে।
