মেহজাবীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মদ আটকের অভিযোগ অস্বীকার, আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা
গত বছরের আগস্ট মাসে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরার সময় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৪ বোতল মদসহ আটক করা হয়েছিল—এমন খবর কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় তার সঙ্গে স্বামী ও নির্মাতা আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। প্রকাশিত খবরে আরও দাবি করা হয়েছিল, তাদের লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া গেলেও বিষয়টি প্রকাশ না করে রহস্যজনকভাবে তাদের ছেড়ে দেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। আর সংবাদমাধ্যমে এ দাবি ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার মুখে পড়েন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী।
অভিযোগ অস্বীকার ও আইনি পদক্ষেপ
এ ব্যাপারে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) মেহজাবীন চৌধুরী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগটি অস্বীকার করেন। একইসঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। এবার আরেক পোস্টে মেহজাবীন দাবি করলেন, তাকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর প্রচার চালানো হয়েছে। এ জন্য আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক পোস্টে মেহজাবীন লিখেছেন, 'সাম্প্রতিক যে ঘটনাটি নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর প্রচার চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে আমি ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই।'
বিস্তারিত বিবৃতি ও প্রমাণের অভাব
তিনি তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন, 'প্রথমত, উল্লেখিত কোনো ঘটনায় আমাকে কখনোই বিমানবন্দরে থামানো হয়নি। আমার কোনো হ্যান্ডব্যাগ বা লাগেজও আটকানো হয়নি; আমার লাগেজ বা হ্যান্ডব্যাগে উল্লেখিত অভিযোগের কিছু পাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। যেসব কথা ছড়ানো হচ্ছে, সেরকম কোনো ঘটনার মুখোমুখি আমি হইনি। বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা আমাকে কোনোরুপ জিজ্ঞাসাবাদও করেননি।'
মেহজাবীন চৌধুরী প্রশ্ন তুলেছেন, 'আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার, আমার লাগেজ থেকে কিছু অবৈধ কিছু বের হওয়ার কোনো ছবি, ভিডিও বা কোনো ধরনের প্রমাণ কি আছে? দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানহানি এখন খুব স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। যে খবরটি ছড়ানো হয়েছে, তার নিরিখে একটিও প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি যে, আমার লাগেজে অবৈধ কিছু পাওয়া গেছে। অথচ ক্লিকবেইটের জন্য আমার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।'
উদ্বেগ ও শেষ কথা
তিনি আরও লিখেছেন, 'এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া কাম্য নয়। আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অমূলক এবং আমি আবারও বলছি, এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে যা প্রকাশিত হয়েছে, সেই ব্যাপারে আমার কোনোই সংশ্লিষ্টতা নেই।'
এই ঘটনায় মেহজাবীন চৌধুরীর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অভিনেত্রীর এই স্পষ্ট বক্তব্য এবং আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা ভবিষ্যতে অনুরূপ মানহানিকর প্রচার রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
