বলিউড তারকা রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ, হাইকোর্টে আবেদন
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রণবীর সিং বর্তমানে একটি আইনি জটিলতার মধ্যে রয়েছেন। কর্ণাটকের স্থানীয় দৈব ঐতিহ্য ও ‘কান্তারা-২’ সিনেমা নিয়ে তার মন্তব্যের কারণে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা মামলার এফআইআর বাতিলের জন্য তিনি কর্ণাটক হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। বিষয়টি এখন আদালতের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে, আগামী ৮ এপ্রিল শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত কীভাবে?
এই বিতর্কের সূচনা হয় গত বছরের ২৮ নভেম্বর গোয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া’ (ইফি)-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে। রণবীর সিং ওই অনুষ্ঠানে একটি পরিবেশনা ও বক্তব্য প্রদান করেন। বেঙ্গালুরুর আইনজীবী প্রশান্ত মেথাল অভিযোগ করেন যে, রণবীর সিং সেখানে পঞ্জুরলি ও গুলিগা দৈবের অভিব্যক্তি অনুকরণ করেন এবং পবিত্র ‘চাভুন্ডি দৈব’-কে ‘মেয়ে ভূত’ বলে উল্লেখ করেন।
২ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেখে আইনজীবী প্রশান্ত মেথাল এই বিষয়টি জানতে পারেন। উপকূলীয় কর্ণাটকে ‘চাভুন্ডি দৈব’ দেবীশক্তির প্রতীক হিসেবে পূজিত হন। অভিযোগে বলা হয়, তাকে ‘ভূত’ হিসেবে উল্লেখ এবং বিকৃতভাবে উপস্থাপন করায় স্থানীয় ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত লেগেছে।
মামলার বিস্তারিত তথ্য
এই ঘটনার পর ২৭ ডিসেম্বর রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ দায়ের করা হয়। আদালতের নির্দেশে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বেঙ্গালুরুর হাই গ্রাউন্ডস থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬, ২৯৯ ও ৩০২ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। এই ধারাগুলো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানির সাথে সম্পর্কিত।
মামলাটি বর্তমানে বেঙ্গালুরুর প্রথম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত আগামী ৮ এপ্রিল এ মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন। রণবীর সিংয়ের আইনি দল এফআইআর বাতিলের মাধ্যমে এই জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে কর্ণাটক হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।
রণবীর সিংয়ের আইনি পদক্ষেপ
রণবীর সিংয়ের আইনি প্রতিনিধিরা যুক্তি দিচ্ছেন যে, তার মন্তব্যগুলো শিল্প ও অভিব্যক্তির স্বাধীনতার অংশ ছিল এবং সেগুলো কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। তারা হাইকোর্টে আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, মামলাটি রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের কারণে দায়ের করা হয়েছে এবং এটি অভিনেতার মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে।
এই মামলা বলিউড ও ভারতীয় বিনোদন শিল্পে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেক শিল্পী ও আইন বিশেষজ্ঞ অভিব্যক্তির স্বাধীনতা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ে আলোচনা করছেন। কর্ণাটক হাইকোর্টের রায় এই ধরনের মামলাগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে।
রণবীর সিং বর্তমানে তার আসন্ন চলচ্চিত্র প্রকল্পগুলোতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু এই আইনি লড়াই তার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলছে বলে জানা গেছে। আদালতের শুনানি ও রায়ের উপর এখন সকলের নজর রয়েছে।
