মেহজাবীন চৌধুরীর মদ আটক অভিযোগ অস্বীকার, সাইবার টার্গেটিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
মেহজাবীন চৌধুরী মদ আটক অভিযোগ অস্বীকার করলেন

মেহজাবীন চৌধুরী মদ আটক অভিযোগ অস্বীকার করলেন, সাইবার টার্গেটিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন

ছোট ও বড় পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সম্প্রতি একটি বিতর্কিত অভিযোগের মুখে পড়েছিলেন। ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৪ বোতল মদসহ তাকে আটক করা হয় বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এ সময় তার সঙ্গে স্বামী আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্তও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ ও গোপনীয়তার বিষয়ে বিতর্ক

প্রাথমিকভাবে অভিযোগ ওঠে যে, মদসহ আটক হলেও রহস্যজনক কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রেখে তাদের ছেড়ে দেন। পরে এই খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মেহজাবীন চৌধুরী ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার মুখোমুখি হন। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, কেন এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসেনি এবং কর্তৃপক্ষ কীভাবে এ বিষয়ে নীরবতা পালন করলেন।

অভিনেত্রীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও অস্বীকার

এ নিয়ে দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে মুখ খুলেছেন মেহজাবীন চৌধুরী। তিনি এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগের শিকার হতে হচ্ছে।

অভিনেত্রী তার পোস্টে লিখেছেন, ‘কিছুদিন ধরে আমি লক্ষ্য করছি আমাকে নানা বিষয়ে টার্গেট করা হচ্ছে। আপনারা অনেকেই জানেন, কিছু দিন আগেও একটি মিথ্যা মামলায় আমাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। আদালত সেই মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন, সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছি, ঠিক তখনই আবার আমার মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সাইবার টার্গেটিং নিয়ে উদ্বেগ

মেহজাবীন চৌধুরী তার পোস্টে প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ছবি ও ভিডিওর কারণে তার মতো অনেক শিল্পীই বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিওর কারণেও আমার মতো অনেক আর্টিস্টদের প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে- যা একেবারেই কাম্য নয়।’

এছাড়াও, তিনি নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার টার্গেটিংয়ের প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এবং এই ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তার মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে নারীদের উদ্দেশ্য করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ও হয়রানির ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে, যা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা।

শুধু কাজ নিয়েই আলোচনার আহ্বান

সবশেষে, মেহজাবীন চৌধুরী শুধুমাত্র তার পেশাগত কাজ দিয়েই আলোচনায় থাকার আশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি তার পোস্টে লেখেন, ‘আমি শুধু আমার কাজেই ফোকাস করতে চাই। আমি চাই আমার কাজ নিয়েই আলোচনা হোক। আশা করি, আপনারা সবাই পাশে থাকবেন।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত জীবন ও মিথ্যা অভিযোগের বদলে তার শিল্পকর্মই যেন মূল আলোচনার বিষয় হয়।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশের বিনোদন জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে, যেখানে সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুজব ও সাইবার টার্গেটিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। মেহজাবীন চৌধুরীর এই প্রতিবাদ শিল্পী সম্প্রদায়ের অনেকের কাছেই সমর্থন পেয়েছে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নৈতিক সাংবাদিকতার গুরুত্বকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।