রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন
সোহেল রানা প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন

রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন

দীর্ঘ ১৩ বছর কারাবাসের পর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সাভার রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা তার মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে তার মায়ের মৃত্যু হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে সাভারে আনা হয়। সন্ধ্যা ৬টায় ব্যাংক কলোনিতে তার মায়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং রাত ৮টার দিকে তাকে আবার কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়।

হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি

এ সময় সোহেল রানাকে দেখতে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হন। জানাজা শেষে সোহেল রানা কিছু সময় পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি উপস্থিত লোকদের উদ্দেশে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার মার কোনো অন্যায় হয়ে থাকলে আপনারা ক্ষমা করে দিয়েন। তার আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করবেন।" এ সময় তার এক হাতে হাতকড়া লাগানো অবস্থায় ঝুলছিল, যা ঘটনার মর্মান্তিক দিকটি তুলে ধরে।

রানা প্লাজা ধসের পটভূমি

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৮ শ্রমিক নিহত হন এবং গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন ১ হাজার ১৬৯ জন। এ ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই বছরের ২৯ এপ্রিল বেনাপোল থেকে ভবনের মালিক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে র্যাব। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বড় শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত।

এই ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তই নয়, বরং এটি রানা প্লাজা ধসের মতো একটি জাতীয় ট্র্যাজেডির স্মৃতিকে আবারও জাগ্রত করেছে। সোহেল রানার প্যারোল মুক্তি এবং জানাজায় অংশগ্রহণ সামাজিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে, যেখানে ন্যায়বিচার ও মানবিকতার দিকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।