জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে ডায়াবেটিস নিয়ে ভুয়া ভিডিও প্রচার, অভিনেতা প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপ নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে অভিনয়শিল্পী জাহিদ হাসানকে নিয়ে। এই ভিডিওতে তিন যুগ ধরে অভিনয়ে নিবেদিত জাহিদ হাসানকে ‘সংগীতশিল্পী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি নাকি কোনো ওষুধ ছাড়াই ডায়াবেটিস থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়েছেন। এছাড়াও, নাতি-নাতনিদের সঙ্গে খেলতে না পারার মর্মান্তিক গল্প জুড়ে দেওয়া হয়েছে এই প্রতিবেদনে। তবে জাহিদ হাসান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এই সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ভুয়া ভিডিওর বিবরণ ও জাহিদ হাসানের প্রতিক্রিয়া
ভিডিওটিতে একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদরূপে উপস্থাপন করে বলা হয়েছে যে, জাহিদ হাসান দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। তিনি নাতি-নাতনিদের সঙ্গে খেলতে পারতেন না এবং নিজেকে পরিবারের বোঝা মনে করতেন। দুর্নীতিগ্রস্ত চিকিৎসকের কারণে তাঁর কষ্ট বেড়ে গিয়েছিল, কিন্তু পরে কোনো ওষুধ ছাড়াই তিনি ডায়াবেটিস জয় করেছেন। এই প্রতিবেদনে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের লোগো ব্যবহার করে সংবাদ আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শকদের বিভ্রান্ত করতে পারে।
জাহিদ হাসান এই বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘এ ধরনের কোনো কথা আমি কোথাও বলিনি। পুরো বিষয়টাই বানানো।’ তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর দুই সন্তান এখনো পড়াশোনা করছে এবং তাদের বিয়ের বয়সই হয়নি, তাই নাতি-নাতনির গল্প সম্পূর্ণ বানোয়াট। সহকর্মীদের কাছ থেকে ভিডিওটি পাওয়ার পর তিনি চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ‘এরা প্রতারক চক্র। মিথ্যার ওপর ব্যবসা করছে। একজন শিল্পীকে নিয়ে এভাবে মিথ্যা গল্প ছড়ানো অপরাধ।’
প্রতারণার পদ্ধতি ও পূর্বের ঘটনা
জাহিদ হাসানের অভিযোগ, অন্য একটি সংবাদের ভিডিও ফুটেজে ডাবিং করে এই প্রতারণামূলক কনটেন্ট বানানো হয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলের লোগো ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ সহজ-সরল। যাচাই না করেই অনেক সময় বিশ্বাস করে ফেলেন। এতে বিভ্রান্তির ঝুঁকি থাকে।’ এর আগেও তাঁকে নিয়ে যৌনরোগ–সংক্রান্ত আরেকটি ভুয়া ভিডিও বানানো হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন, যা সাইবার অপরাধের একটি উদাহরণ।
সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে আহ্বান
সাইবার অপরাধের কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে জাহিদ হাসান বলেন, ‘এদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। এভাবে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা মেনে নেওয়া যায় না।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার নতুন নয়, কিন্তু জনপ্রিয় শিল্পীদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে এমন প্রতারণা কেবল ব্যক্তিগত সুনামহানিই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভুল তথ্য ছড়ায়। জাহিদ হাসানের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, এই ভুয়া প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এই ঘটনা সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল বিশ্বাসযোগ্যতার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। ভুয়া তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
