ব্রিটিশ অভিনেত্রী মিলি ববি ব্রাউন: ২২ বছরেই ২৪৫ কোটি টাকার মালিক
ব্রিটিশ অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র প্রযোজক মিলি ববি ব্রাউনের জন্মদিন উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক তার অসাধারণ ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের সমৃদ্ধ গল্প। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তার জন্মদিন, যেখানে এই তরুণ তারকা শুধু অভিনয়েই নয়, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও বিপুল সাফল্য অর্জন করেছেন।
শৈশব থেকে সাফল্যের যাত্রা
২০০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি স্পেনের মারবেলায় জন্মগ্রহণ করেন মিলি ববি ব্রাউন। অল্প বয়সেই পরিবারের সঙ্গে ইংল্যান্ড ও পরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে শুরু হয় কঠিন সময়—অডিশনে বারবার প্রত্যাখ্যান, পরিবারের আর্থিক সংকট, সব মিলিয়ে একপর্যায়ে হাল ছাড়ার উপক্রম। কিন্তু ভাগ্য তখন তার জন্য অন্য পরিকল্পনা করে রেখেছিল।
'স্ট্রেঞ্জার থিংস' দিয়ে বিশ্বজয়
২০১৬ সালে নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজ 'স্ট্রেঞ্জার থিংস'-এ 'ইলেভেন' চরিত্রে অভিনয় করে মিলি রাতারাতি বিশ্বতারকায় পরিণত হন। টেলিকাইনেটিক ক্ষমতাসম্পন্ন এই রহস্যময় চরিত্রটি দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেয়। এই চরিত্রের জন্য তিনি পেয়েছেন একাধিক মনোনয়ন ও পুরস্কার, বিশেষ করে অল্প বয়সে এমি মনোনয়ন পেয়ে আলোচনায় আসেন।
বড়পর্দায় সফল পদচারণা
'স্ট্রেঞ্জার থিংস'-এর সাফল্যের পর মিলি ববি ব্রাউন বড়পর্দায় পা রাখেন। মনস্টার ইউনিভার্সের সিনেমা 'গডজিলা: কিং অব দ্য মনস্টার্স' ও এর সিক্যুয়েলে অভিনয় করে প্রমাণ করেন, টিভির গণ্ডি পেরিয়ে ব্লকবাস্টার সিনেমাতেও তিনি সমান দক্ষ। 'এনোলা হোমস'-এ শার্লক হোমসের বোন এনোলা চরিত্রে অভিনয় করে নতুন পরিচয় গড়েন, যেখানে তিনি শুধু অভিনয়ই নয়, নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন।
মানসিক স্বাস্থ্য সংগ্রাম ও সামাজিক মাধ্যম
বিশ্বখ্যাতির সঙ্গে সঙ্গে মিলি ববি ব্রাউনকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনা ও ট্রলিং। অল্প বয়সে খ্যাতির ভার কাঁধে নিয়ে তাকে বিষাক্ত আক্রমণের মুখেও পড়তে হয়েছে, এমনকি একপর্যায়ে টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে বাধ্য হন। তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং তরুণদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক
কিশোর বয়স থেকেই মিলি ববি ব্রাউনের প্রেমজীবন নিয়ে মিডিয়ার কৌতূহল ছিল। তার জীবনের বড় অধ্যায় শুরু হয় যখন তিনি সম্পর্কে জড়ান জেক বোনজভির সঙ্গে, যিনি কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জন বন জোভির ছেলে। ২০২৩ সালে তাদের বাগদান হয় এবং পরবর্তীতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। অল্প বয়সে বিয়ে নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও মিলি জানিয়েছেন, এটি তাদের পারস্পরিক সিদ্ধান্ত ছিল এবং পরিবারও পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে।
উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্য
অভিনয়ের বাইরে মিলি ববি ব্রাউনের আরেকটি বড় পরিচয় হচ্ছে উদ্যোক্তা। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বিউটি ব্র্যান্ড 'ফ্লোরেন্স বাই মিলি', যা তার প্রপিতামহীর নামে নামকরণ করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য স্কিনকেয়ার ও কসমেটিকস পণ্য নিয়ে এই ব্র্যান্ড দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সামাজিক মাধ্যমে তার শক্তিশালী উপস্থিতি ও বিশ্বব্যাপী ফ্যানবেস ব্র্যান্ডটিকে বড় বাজার দখল করতে সাহায্য করেছে।
বিপুল সম্পদ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মাত্র ২২ বছর বয়সেই মিলি ববি ব্রাউন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২০ মিলিয়ন ডলার বা ২৪৫ কোটি টাকার বেশি, যা টিভি সিরিজের পারিশ্রমিক, চলচ্চিত্র, ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট ও নিজস্ব ব্যবসা থেকে এসেছে। হলিউডে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান গড়তে তিনি সচেতনভাবে চরিত্র বেছে নিচ্ছেন এবং নতুন চলচ্চিত্র প্রকল্প, প্রযোজনার পরিকল্পনা ও ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়ে কাজ করছেন।
শিশুশিল্পী থেকে প্রযোজক-উদ্যোক্তা—মিলি ববি ব্রাউনের পথচলা যেন স্বপ্নের মতোই। তার স্টাইল, ফ্যাশন সেন্স, রেড কার্পেট লুক—সবই কিশোর-তরুণদের কাছে ট্রেন্ড তৈরি করে। তবে তিনি বরাবরই বলেছেন, 'আমি শুধু অভিনেত্রী নই, একজন মানুষ—আমার বেড়ে ওঠার অধিকার আছে।' সামনে অনেক পথ, নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় এই প্রতিভাবান তারকা।
