প্রতারণার অভিযোগে চিত্রনায়িকা রুবিনা নিঝুম ও স্বামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে করা এক মামলায় চিত্রনায়িকা রুবিনা আক্তার নিঝুম ও তাঁর স্বামী মামূনুর রশীদ রাহূলের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ নজরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্ধারিত তারিখে নিঝুম ও রাহূল উপস্থিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছিল।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ
গত ২৯ জানুয়ারি সুরভী বেগম নামের এক নারী ঢাকার একটি আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। আদালত প্রথমে ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আসামিদের হাজির হতে সমন জারি করেছিলেন। মামলায় রুবিনা নিঝুম ও মামূনুর রশীদ রাহূল ছাড়াও রাহূলের ভাই নান্নু মিঞা ও বোন মহিমা বিবিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী সুরভী বেগমের সঙ্গে আসামি নিঝুম ও রাহূলের পূর্বপরিচয় ছিল এবং তাদের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ২০২০ সালের ১ অক্টোবর সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে নিঝুম ও রাহূল সুরভী বেগমের কাছ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ধার চান।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১১ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দফায় মোট সাড়ে ১২ লাখ টাকা সুরভী বেগম তাদের হাতে তুলে দেন। দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়ার শর্তে একটি লিখিত চুক্তিও সই হয়। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, নির্ধারিত সময়ে রাহূল টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে কিংবা তাঁর মৃত্যু হলে তাঁর ভাই নান্নু ওই অর্থ পরিশোধ করবেন।
টাকা ফেরত না দেওয়া ও হুমকির অভিযোগ
পরবর্তীতে সুরভী বেগম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর আর্থিক অসচ্ছলতা দেখা দেয়। জরুরি প্রয়োজনে গত বছরের ১ মে তিনি ধার দেওয়া টাকা ফেরত চান। তবে অভিযোগ অনুযায়ী নিঝুম ও রাহূল টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এরপর ২২ সেপ্টেম্বর সুরভী বেগমের পক্ষে রুবিনা নিঝুম ও রাহূলের বনশ্রীর বাসায় গিয়ে টাকা ফেরত চাওয়া হয়। কিন্তু তারা টাকা দিতে রাজি হননি এবং উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রুবিনা আক্তার নিঝুম ও তাঁর স্বামী মামূনুর রশীদ রাহূলের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনজীবী সৈয়দ নজরুল ইসলামের মতে, আদালতের এই আদেশ মামলাটির গুরুত্ব ও জরুরি অবস্থা তুলে ধরেছে।
এই ঘটনাটি বাংলাদেশের বিনোদন জগত ও আইনী প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া কেমন হবে তা এখন দেখার বিষয়।
