আবুল হায়াতের দাবি: সংস্কৃতি খাতে স্বায়ত্তশাসন ও স্বচ্ছ নীতির তাগিদ
আবুল হায়াতের দাবি: সংস্কৃতিতে স্বায়ত্তশাসন ও স্বচ্ছ নীতি

আবুল হায়াতের কণ্ঠে সংস্কৃতি খাতের প্রত্যাশা: স্বায়ত্তশাসন ও স্বচ্ছতার আহ্বান

বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা আবুল হায়াত নতুন সরকারের কাছে সংস্কৃতি খাতের জন্য জোরালো দাবি তুলে ধরেছেন। তিনি টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, সংগীত ও নাট্যাঙ্গনের সাথে জড়িত শিল্পীদের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে স্বচ্ছ নীতি, স্বাধীন কর্মপরিবেশ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মনজুর কাদেরের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বেতার-টেলিভিশনের স্বায়ত্তশাসন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং সরকারি অনুদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর চাওয়া-পাওয়া বিস্তারিতভাবে ব্যক্ত করেছেন।

টেলিভিশন ও বেতারে স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব

আবুল হায়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, পাকিস্তান আমলেও টেলিভিশন ও বেতারে স্বায়ত্তশাসন বিদ্যমান ছিল, যা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, "যখন স্বায়ত্তশাসন ছিল, তখন সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো সমৃদ্ধভাবে বিকশিত হতো। কিন্তু এখন যা ইচ্ছা, তা-ই অনুষ্ঠান হতে লাগল, যা শিল্পের জন্য ক্ষতিকর।" তাঁর মতে, স্বায়ত্তশাসন শিল্পকর্মের যথাযথ বিকাশের জন্য অপরিহার্য, এবং টেলিভিশনে স্বজনপ্রীতির বদলে সৃজনশীলতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

শিল্পকলা একাডেমির স্বাধীনতা ও শিল্পের বিকাশ

শিল্পকলা একাডেমির প্রসঙ্গে আবুল হায়াত বলেন, "শিল্পকলা একাডেমিকেও স্বাধীনভাবে চলতে দিতে হবে, কারণ এটি শিল্পের বিকাশের একটি বৃহৎ ক্ষেত্র।" তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কাউকে হাত-পা বেঁধে সাঁতার কাটতে বলা হয়, তাহলে শিল্পকর্ম বাধাগ্রস্ত হয়। তাই, এই প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা রক্ষা করা জরুরি, যাতে শিল্পীরা তাদের সৃজনশীলতা পুরোপুরি প্রকাশ করতে পারেন।

শিল্পীদের রাজনৈতিক ভূমিকা ও সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি

রাজনীতি প্রসঙ্গে আবুল হায়াতের বক্তব্য স্পষ্ট। তিনি বলেন, শিল্পীরা এই দেশের নাগরিক হওয়ায় রাজনীতি করার অধিকার তাদের আছে, কিন্তু "কোনো শিল্পী যদি শিল্পকর্ম বাদ দিয়ে রাজনীতিতে বেশি মেতে থাকেন, তাহলে তাঁর রাজনৈতিক কর্মীই হওয়া উচিত।" তিনি শিল্পীদের দলদাস না হওয়ার পরামর্শ দেন এবং মতাদর্শ থাকা স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া, সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যে, "আমার পক্ষে কাজ না করলে সেই শিল্পীই শত্রু—এই ভাবনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে," যাতে একটি সহনশীল ও উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়।

সামগ্রিকভাবে, আবুল হায়াতের এই বক্তব্য সংস্কৃতি খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে গভীর ভাবনা প্রকাশ করে, যা নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করতে পারে।