মান্নার স্ত্রী শেলীর মুখে তারেক রহমানের সঙ্গে কথোপকথনের গল্প
প্রয়াত অভিনেতা মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে একটি পুরোনো ছবি ও স্মৃতির কথা উল্লেখ করেছেন। ২০০২ সালের পরের এক সময়ে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে মান্নার সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হয়েছিল। শেলী মান্না জানান, সেই সময়ে তারেক রহমান মান্নার অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন এবং অভিনয়, দেশ ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
ছবিটি আবারও ভাইরাল হওয়ার প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি ১৭ ফেব্রুয়ারি মান্নার মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মান্নার একটি পুরোনো ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ছবিটি আগেও গত ডিসেম্বরে তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর ভাইরাল হয়েছিল। ছবিতে দুজনকে হাসিমুখে কুশলবিনিময় করতে দেখা যায়। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে ছবিটি আবারও আলোচনায় এসেছে এবং চলচ্চিত্রবিষয়ক পেজে শেয়ার হয়েছে।
শেলী মান্না বলেন, "ছবিটি অনেক আগের। আমাদের কাছেও রয়েছে। হঠাৎ করেই দেখছি সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে। সেদিন মান্নার সঙ্গে তারেক রহমানের হঠাৎ দেখা হয়। সেই সময় মান্না বলেছিলেন— তার অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন তারেক রহমান। মূলত অভিনয়, দেশ—এসব নিয়েই কথা হয়েছিল।"
আলোচনার বিষয়বস্তু ও প্রাসঙ্গিকতা
শেলী মান্না আরও উল্লেখ করেন যে মান্না রাজনীতি থেকে দূরে থাকতেন এবং অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। তিনি বলেন, "মান্না তো সেভাবে রাজনীতি করতেন না, অভিনয় নিয়েই থাকতেন। সেদিন অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন। তারেক রহমান আন্তরিকভাবে কথা বলেছিলেন। সিনেমা আর দেশের রাজনীতি নিয়েই আলাপ হয়।" তিনি যোগ করেন যে তাদের পরিবার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তারা খুব আগ্রহী ছিলেন না এবং মান্না তারেক রহমান সম্পর্কে ইতিবাচক কথাই বলেছিলেন।
এই ঘটনাটি ২০০২ সালের পরের সময়ের, যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। রমনার বটমূলে পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে মান্না অংশ নিয়েছিলেন এবং সেখানেই তারেক রহমানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়।
মান্নার জীবন ও কর্ম
নায়ক মান্না ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৪৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন। তিনি ১৯৬৪ সালের ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তার আসল নাম সৈয়দ মোহাম্মদ আসলাম তালুকদার। উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর তিনি ঢাকা কলেজে স্নাতকে ভর্তি হন। ১৯৮৪ সালে এফডিসির নতুন মুখের সন্ধান কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে আসেন এবং নায়করাজ রাজ্জাকের সহায়তায় ‘তওবা’ চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়।
মান্না তার অভিনয়জীবনে তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন এবং তার সিনেমাগুলোতে বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের কথা উঠে এসেছে। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘দাঙ্গা’, ‘লুটতরাজ’, ‘তেজী’, ‘আম্মাজান’, ‘আব্বাজান’, ‘বীর সৈনিক’, ‘শান্ত কেন মাস্তান’, ‘খলনায়ক’, ‘রংবাজ বাদশা’, ‘সুলতান’, ‘ভাইয়া’, ‘টপ সম্রাট’, ‘চাঁদাবাজ’, ‘ঢাকাইয়া মাস্তান’, ‘মাস্তানের উপর মাস্তান’, ‘বিগবস’, ‘মান্না ভাই’, ‘টপ টেরর’, ‘জনতার বাদশা’, ‘রাজপথের রাজা’, ‘এতিম রাজা’, ‘টোকাই রংবাজ’, ‘ভিলেন’, ‘নায়ক’, ‘সন্ত্রাসী মুন্না’, ‘জুম্মান কসাই’, ‘আমি জেল থেকে বলছি’, ‘কাবুলিওয়ালা’ ইত্যাদি।
এই সাক্ষাৎকার ও ছবিটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হিসেবে রয়ে গেছে, যা সময়ের স্রোতে আবারও আলোচনায় এসেছে।
