মেয়েকে ঘিরে নেতিবাচক প্রচার অভিযোগের জবাব দিলেন রাবিনা ট্যান্ডন
বলিউড অভিনেত্রী রাবিনা ট্যান্ডন তার মেয়ে রাশা থাদানির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া 'নেগেটিভ পিআর' বা নেতিবাচক প্রচার অভিযোগের সরাসরি জবাব দিয়েছেন। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে কথা বলার সময় তিনি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন এবং তার পরিবারের নৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।
বিতর্কের সূত্রপাত কীভাবে শুরু হলো?
রাবিনা ট্যান্ডন ব্যাখ্যা করেন যে, তার মেয়ে রাশা থাদানির অভিষেক চলচ্চিত্র 'আজাদ'-এর গান 'উই আম্মা' মুক্তির পর থেকেই এই বিতর্কের সূচনা হয়। গানটি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন 'স্টার কিড' বা তারকাসন্তানদের সঙ্গে রাশার তুলনা শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে তীব্র ট্রলিং এবং 'ফ্যান ওয়ার'-এ রূপ নেয়। এই পরিস্থিতিতে গুঞ্জন ছড়ায় যে, রাশার পিআর টিম অন্যান্য তারকাসন্তানদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালিয়ে তাকে এগিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
রাবিনার স্পষ্ট বক্তব্য
এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় রাবিনা ট্যান্ডন দৃঢ়ভাবে বলেন, 'আমার পুরো ক্যারিয়ারে কখনো পিআর রাখিনি। আমরা এমন পরিবার নই যে নিজের বন্ধুদের সন্তানদের ছোট করে নিজেদের তুলে ধরব। যাদের নিয়ে তুলনা চলছে, তারা সবাই আমাদের পরিচিত পরিবারের সন্তান।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিনোদন জগতে গুজব খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তথাকথিত 'পিআর মেশিনারি' প্রসঙ্গে আদৌ এমন কোনো পরিকল্পিত প্রচার চলছে কিনা তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
রাশা থাদানির চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার
অভিষেক কাপুর পরিচালিত 'আজাদ' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন রাশা থাদানি। যদিও ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি, তবে 'উই আম্মা' গানে তার নাচ দর্শকমহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। বর্তমানে তিনি তার পরবর্তী চলচ্চিত্র 'লাইকে লাইকা'-এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে তার সহ-অভিনেতা হিসেবে অভয় ভার্মাকে দেখা যাবে।
এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন সৌরভ গুপ্ত এবং প্রযোজনা করছেন ভাবনা দত্ত ও রাঘব গুপ্ত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, 'লাইকে লাইকা' ছবির 'চাপ তিলক' গানের মাধ্যমে গায়িকা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন রাবিনা ট্যান্ডনের মেয়ে রাশা থাদানি।
বিনোদন শিল্পে গুজবের প্রভাব
রাবিনা ট্যান্ডনের এই বক্তব্য বিনোদন শিল্পে ছড়িয়ে পড়া গুজব এবং নেতিবাচক প্রচারের বিরুদ্ধে একটি শক্ত অবস্থান তুলে ধরে। তার মতে, পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো ধরনের অসৎ প্রচার কৌশল তার পরিবারের মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগের প্রকৃতিও সামনে নিয়ে আসে।
