বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকিতে হিমাংশী খুরানা, রোহিত-রণবীরের পর অভিনেত্রীও লক্ষ্য
বলিউড জগতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে কুখ্যাত বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকিবার্তা। পরিচালক রোহিত শেঠি ও অভিনেতা রণবীর সিংয়ের পর এবার 'বিগ বস'খ্যাত অভিনেত্রী হিমাংশী খুরানাও একই গ্যাংয়ের হুমকির শিকার হয়েছেন। পাঞ্জাবের এই অভিনেত্রীর কাছে হুমকিবার্তা এসেছে বিষ্ণোই-ঘনিষ্ঠ জিশান আখতারের কাছ থেকে, যিনি বাবা সিদ্দিকী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত। বার্তায় ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মোহালি পুলিশ এ সংক্রান্ত একটি এফআইআর দায়ের করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
হুমকির বিস্তারিত ও নিরাপত্তা জোরদার
শুক্রবার সকালে রোহিত শেঠি ও রণবীর সিংয়ের কাছে নতুন করে হুমকিবার্তা আসে। হাড়হিম করা অডিও ক্লিপে হুমকিদাতা বলেছেন, "এমন হাল করব, সাতজন্ম মনে রাখবি।" একই ধরনের বার্তা পেয়েছেন হিমাংশী খুরানা। তিনি অভিযোগ করেন, মেইলের সঙ্গে অডিওবার্তাও সংযুক্ত ছিল এবং প্রতিটি বার্তায় জিশান আখতার তার কাছে ১০ কোটি টাকা চেয়েছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হিমাংশীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
জিশান আখতারের পরিচয় ও গ্যাং সংযোগ
জিশান আখতার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং বাবা সিদ্দিকী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত আসামি। তার বেশ কয়েকটি হাইপ্রোফাইল অপরাধের সঙ্গেও জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। জেলে থাকার সময় গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বেড়েছিল বলে জানা গেছে। বিষ্ণোইয়ের নির্দেশে জিশান তার গ্যাংয়ের হয়ে নানা কার্যকলাপ পরিচালনা করতেন বলেও খবর পাওয়া যায়।
পূর্বের হামলা ও তদন্তের অগ্রগতি
দিন কয়েক আগেই বিষ্ণোই গ্যাং পাঁচ রাউন্ড গুলি চালিয়ে রোহিত শেঠির বাড়ির কাচের বারান্দা ঝাঁজরা করে দিয়েছিল এবং দায় স্বীকার করে নিয়েছিল। কয়েক দিনের ব্যবধানে রণবীর সিংয়ের কাছেও ১০ কোটি রুপি চেয়ে হুমকি দেওয়া হয়। এরপরই মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ঘটনার তদন্তে নামে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দুই অভিনেতার ম্যানেজারের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া, রোহিতের বাড়িতে হামলা চালানো চার অভিযুক্ত স্বপ্নিল সাকাত, আদিত্য গায়কী, সিদ্ধার্থ ইয়েনপুরে এবং সমর্থ পোমাজিকে নিয়ে অপরাধ দৃশ্যের পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
বিনোদন জগতে আতঙ্ক ও পুলিশের সতর্কতা
গ্যাংস্টারদের এই দৌরাত্ম্যে বিনোদন দুনিয়ায় অনেকেই নয়ের দশকের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন, যখন বলিউডে গ্যাংস্টারদের প্রভাব বেশি ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। এই ঘটনাগুলো বলিউডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং শিল্পজগতে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
