সাইফ আলি খানের অভিভাবকত্বে মুগ্ধ মা শর্মিলা ঠাকুর
ডিজিটাল যুগে তারকাদের জীবনযাত্রা ও দায়িত্ব পালনের ধরন আমূল পরিবর্তিত হয়েছে। ঘর থেকে বের হলেই পাপারাজ্জিদের ঘেরাও, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর পোজ দেওয়ার চাপ—এসবের মধ্যেও তাদেরকে পেশাগত জীবন ও সন্তান লালন-পালনের ভার সামলাতে হয়। বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর সম্প্রতি তার ছেলে সাইফ আলি খানের অভিভাবকত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
পডকাস্টে উন্মোচিত সাইফের পিতৃত্ব
শর্মিলা ঠাকুর মেয়ে সোহা আলি খানের ‘অল অ্যাবাউট হার’ শীর্ষক পডকাস্টে অংশ নিয়ে সাইফের পিতৃত্বের গুণাবলী তুলে ধরেন। এই সাক্ষাৎকারে তার নাতনি সারা আলি খানও উপস্থিত ছিলেন। শর্মিলা ঠাকুর বলেন, “অভিভাবক হিসেবে সাইফ সত্যিই অসাধারণ! তার দায়িত্ববোধ ও সন্তানদের প্রতি আন্তরিকতা আমাকে অভিভূত করে।”
তিনি উল্লেখ করেন যে, আগের দিনে সন্তান পালনে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের পরামর্শ নেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ের বাবা-মায়েরা বন্ধুবান্ধব ও বইয়ের সাহায্য নেন। সাইফ ও সোহা আলি খানও এই আধুনিক পদ্ধতিতে তাদের সন্তানদের লালন-পালন করছেন, যা থেকে শর্মিলা ঠাকুর নিজেও নতুন কিছু শিখছেন বলে জানান।
ব্যস্ততার মধ্যেও নিখুঁত দায়িত্ব পালন
শর্মিলা ঠাকুরের মতে, সাইফ আলি খান পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও কখনো সন্তানদের প্রতি গাফিলতি দেখাননি। তিনি বলেন, “সাইফ একজন আদর্শ অভিভাবক। সারার পড়াশোনা ও দৈনন্দিন রুটিনে তিনি নিয়মিত নজর রাখেন। রাতে সিনেমার প্রিমিয়ারে গেলেও বাড়ি ফিরে সারা তার হোমওয়ার্ক নিয়ে বসত, এতে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, সন্তানদের বড় করে তোলার ক্ষেত্রে নিখুঁত হওয়া জরুরি নয়, বরং তাদের স্বতন্ত্রভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। সাইফের আচরণ থেকেই তিনি এই দর্শনটি আয়ত্ত করেছেন।
ক্রিসমাস ট্রির ঘটনা ও সাইফের ধৈর্য
শর্মিলা ঠাকুর একটি স্মরণীয় ঘটনার কথা শেয়ার করেন। একবার বড়দিনে ক্রিসমাস ট্রি সাজানোর সময় সাইফের ছোট ছেলে ইব্রাহিম গাছ সাজানোর জিনিসপত্র এদিক-ওদিক ছড়িয়ে দিচ্ছিল। সাধারণত বাবা-মায়েরা এমন পরিস্থিতিতে বকাবকি করলেও সাইফ ভিন্ন আচরণ করেছিলেন।
“সাইফ ইব্রাহিমকে বলল, ‘দাও, আমায় দাও। দেখ কীভাবে করতে হয়।’ এই সহজ ও ধৈর্যশীল আচরণ শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে,” বলেন শর্মিলা ঠাকুর। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাইফের অন্যান্য সন্তান তৈমুর ও জাহাঙ্গীরের সাথেও তিনি একই রকম আন্তরিক ও প্রাণবন্ত।
হামলার পরও সন্তানদের প্রতি সচেতনতা
গত বছর সাইফ আলি খানের ওপর হামলার ঘটনার পরও তিনি সন্তানদের সাথে তার স্বাভাবিক আচরণ বজায় রেখেছেন। শর্মিলা ঠাকুর বলেন, “সাইফ কোনোভাবেই সন্তানদের মনে এই দুর্ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেননি। তিনি সবসময় তাদের সাথে প্রাণবন্ত ও সক্রিয় থাকেন।”
শর্মিলা ঠাকুরের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, সাইফ আলি খান শুধু একজন সফল অভিনেতাই নন, বরং একজন দায়িত্বশীল ও আদর্শ বাবা হিসেবেও তার পরিবারে প্রশংসিত। তারকা জীবনের চাপ ও ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি সন্তানদের লালন-পালনে যে নিষ্ঠা ও স্নেহ প্রদর্শন করেন, তা অনুকরণীয়।
