রিজভী রিজুর অভিনয় যাত্রা: 'হাওয়া' থেকে 'প্রেশার কুকার' পর্যন্ত সংগ্রামের গল্প
রিজভী রিজু: 'হাওয়া' থেকে 'প্রেশার কুকার' অভিনয়ের পথে

রিজভী রিজুর অভিনয় জীবন: সংগ্রাম ও সম্ভাবনার গল্প

উঠতি কিংবা সংগ্রামী অভিনেতা রিজভী রিজুর সঙ্গে আলাপ শুরু হয় সরাসরি কাজের খবর দিয়ে। তিনি জানান, বর্তমানে রায়হান রাফী পরিচালিত 'প্রেশার কুকার' সিনেমায় অভিনয় করছেন। সিনেমা, ওটিটি, এবং ইউটিউব কনটেন্টে সময়ের চরিত্রাভিনেতাদের একজন হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিনোদন মাধ্যমে সক্রিয়। তবে বিশেষভাবে নজরে আসেন 'হাওয়া' সিনেমার মাধ্যমে, যেখানে তিনি 'পারকেস' চরিত্রে অভিনয় করেন।

'হাওয়া' সিনেমার মজার তথ্য

রিজভী রিজু জানান, 'হাওয়া' সিনেমায় তার অভিনয় করার কথা ছিল 'উরকেস' চরিত্রে। তিনি ওই চরিত্রের জন্য অডিশন দেন এবং দুই মাস রিহার্সেলও করেন। কিন্তু পরে তাকে 'পারকেস' চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন যখন চরিত্র পরিবর্তনের কথা জানান, তখন রিজভী প্রথমে অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে পরে নানা কারণে কাজটি করেন এবং মনে করেন যে এটি ভালোই হয়েছে।

ফিল্মোগ্রাফি ও আর্ট ঘরানার কাজ

রিজভীর ফিল্মোগ্রাফি বেশ ঈর্ষণীয়। তার কাজের তালিকায় রয়েছে:

  • ধ্রুব হাসান পরিচালিত 'ফাতিমা'
  • শঙ্খ দাশগুপ্তের 'প্রিয় মালতী'
  • সুকর্ণ সাহেদ ধীমান পরিচালিত চরকি অরিজিনাল সিরিজ 'ফেউ'
  • নুহাশ হুমায়ূন পরিচালিত সিরিজ '২ষ'

আর্ট ঘরানার কাজে পারিশ্রমিক বেশি কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'না'। তবে তিনি সব ধরনের কাজ করতে চান। বাণিজ্যিক ধারার কাজ আসলেও বিভিন্ন কারণে তা করতে পারেননি। তিনি উদাহরণ দেন যে একটি সুপারস্টারের সিনেমায় কাজ করার কথা ছিল, কিন্তু ডেটিং সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আরেকটি অ্যাকশন ঘরানার সিনেমার প্রস্তাব আসে, কিন্তু পারিশ্রমিক মিলল না বলে তিনি রাজি হননি।

গান ও অন্যান্য কাজ

রিজভী রিজু গানও করেন, বিশেষ করে লোক গান ও লালনের গান। তিনি গান শেখেননি, কিন্তু আড্ডা-পরিচিত মহলে গান শুরু করে পরে স্টেজেও গান করেছেন। ২০১৩ সালে আদনান আল রাজীব পরিচালিত 'অ্যাট এইটটিন' টেলিফিল্মে 'ও বন্ধু লাল গোলাপি' ভার্সনটি তার গাওয়া। এছাড়া 'লুলু পাগল' নামে একটি গানে তিনি মিউজিক ভিডিওর প্রধান অভিনয়শিল্পী ও কণ্ঠশিল্পী। তিনি বলেন, এই গানগুলোর আইডিয়া মূলত সংগীত পরিচালক আরাফাত মহসীন নিধির, যিনি তার শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে তাকে যুক্ত করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রিজভীর জন্ম ঢাকায়, শৈশব কেটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে। লেখাপড়ার কিছু অংশ শেষ করে আবার ঢাকায় ফিরে আসেন। শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি কাজের সন্ধানে তিনি সাউন্ড স্টুডিও ও প্রোডাকশন হাউসে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিনি বলেন, 'অভিনয়ে আরও নিয়মিত হতে পারলে চাকরি আর করব না'

প্রধান চরিত্রের শিল্পী না হলে শুধু অভিনয় করে টিকে থাকা সম্ভব কিনা জানতে চাইলে তিনি আত্মবিশ্বাসী উত্তর দেন, 'আমি পারব'। তিনি মনে করেন, এখন চরিত্রাভিনেতা থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হচ্ছে, তাই টিকে থাকা সম্ভব। তিনি রাজধানীর মেট্রো রেলে যাতায়াতকারীদের জন্য বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেন এবং ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেন। তার ভাষায়, 'আপাতত এটাই বড় চ্যালেঞ্জ, তবু ঠোঁটের কোনে হাসিটা ধরে রাখতে চাই'। তিনি মেট্রোর মতো দ্রুতগামী না হয়ে, মেট্রো সেবার মতো মুগ্ধতা ছড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে চান।