শানায়া কাপুরের ভীতিকর প্রেমের অভিজ্ঞতা: বিদেশে প্রেমিকের সঙ্গে পাঁচ নারীর বার্তালাপ
শানায়া কাপুরের ভীতিকর প্রেমের অভিজ্ঞতা

শানায়া কাপুরের ভীতিকর প্রেমের অভিজ্ঞতা: বিদেশে প্রেমিকের সঙ্গে পাঁচ নারীর বার্তালাপ

বলিউড অভিনেত্রী শানায়া কাপুর সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের অতীত প্রেমজীবনের এক তিক্ত ও ভীতিকর অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলি জানিয়েছেন। বিদেশ ভ্রমণে থাকা অবস্থায় তাঁর তৎকালীন প্রেমিকের ফোনে একসঙ্গে পাঁচ নারীর সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। শানায়ার ভাষায়, সেটিই ছিল তাঁর সম্পর্কের সবচেয়ে ‘ভীতিকর’ অভিজ্ঞতা, যা তাঁকে গভীরভাবে আহত করেছিল।

নতুন ছবির প্রচারণায় ব্যক্তিগত গল্পের প্রকাশ

শানায়া কাপুর অভিনীত নতুন ছবি ‘তু ইয়া ম্যায়’ মুক্তি পেয়েছে আজ শুক্রবার। ছবি প্রচারণায় ব্যস্ত শানায়া রিলেশনসশিট অ্যাডভাইস পডকাস্টে হাজির হয়ে এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিতভাবে বলেন। সেখানে তিনি বিশ্বাসভঙ্গ, আবেগঘন প্রতারণা ও সম্পর্ক ভাঙনের পর নিজের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন, যা শ্রোতাদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

‘পারফেক্ট’ প্রেম থেকে ধাক্কা: বিদেশ সফরের ঘটনা

শানায়া জানান, তখন তিনি বিদেশ সফরে ছিলেন তাঁর তৎকালীন প্রেমিকের সঙ্গে। সম্পর্ক নিয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী ছিলেন এবং ভাবছিলেন, ‘এটাই সেই সম্পর্ক। এত ভালো যেন সত্যি হওয়ার মতো নয়’। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘোরে একেবারে সাধারণ একটি মুহূর্তে। রাতের খাবারের জন্য বের হওয়ার আগে তাঁর ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায়। প্রেমিকের ফোন দিয়ে ক্যাব বুক করতে গিয়ে একটি নোটিফিকেশন চোখে পড়ে—প্রেমিকের সাবেক প্রেমিকার বার্তা। কৌতূহল ও সন্দেহ থেকে তিনি চ্যাট খুলে দেখেন, যা দেখে তিনি বিস্মিত ও আহত হন।

পাঁচ নারীর সঙ্গে বার্তালাপ: শানায়ার মানসিক সংকট

শানায়া বলেন, প্রথম চ্যাটের পরই আরেকটি, তারপর তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম—এভাবে পাঁচ নারীর সঙ্গে একই ধরনের বার্তা আদান-প্রদান দেখতে পান তিনি। ‘ও এমনভাবে কথা বলছিল, যেন সে একেবারেই সিঙ্গেল’, যোগ করেন তিনি। এই ঘটনা শানায়াকে দ্রুত চ্যাটগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের পাঠান পরামর্শ চেয়ে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডে, যিনি তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন।

বিদেশে একা থাকার অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণা

শানায়ার ভাষ্য অনুযায়ী, অনন্যা বলছিলেন, ‘ট্রেনে উঠে চলে এসো, আমরা কাছাকাছিই আছি’। কিন্তু বিদেশে একা থাকার অনিশ্চয়তা তাঁকে দ্বিধায় ফেলে দেয়। শানায়া বলেন, ‘আমি কীভাবে হঠাৎ ট্রেনে উঠে চলে যাব? কী করব বুঝতে পারছিলাম না। পুরো ডিনারে আমি ভান করছিলাম সব ঠিক আছে’। পরবর্তী তিন দিনও বাইরে ঘোরাফেরা, ডিনার—সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে গেলেও ভেতরে ভেতরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন।

প্রেমিকের প্রতিক্রিয়া ও সম্পর্কের সমাপ্তি

অবশেষে প্রেমিক বুঝতে পারেন, কিছু একটা ঠিক নেই। শানায়ার দাবি, তাঁকে শান্ত করতে প্রেমিক দামি এক জোড়া দুল কিনে দেন। শানায়া সেটিকে রসিকতার সুরে নাম দেন ‘গিল্টি ইয়াররিংস’। পরে তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়, তবে মজার ছলে শানায়া বলেন, দুলটি এখনো তাঁর কাছে আছে এবং মাঝেমধ্যে পরেনও—‘আমি তো এটা অর্জন করেছি’, হাসতে হাসতে বলেন তিনি।

শানায়ার দৃষ্টিতে প্রতারণা: বার্তালাপের সীমা অতিক্রম

প্রেমিকের দাবি ছিল, এটি কেবল বার্তা আদান-প্রদান, শারীরিক কোনো সম্পর্ক হয়নি। কিন্তু শানায়ার কাছে সেটিই ছিল প্রতারণা, যা তাঁর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল। তিনি মনে করেন, বিশ্বাসভঙ্গ ও আবেগঘন এই ঘটনা তাঁর জন্য একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে আছে, যা এখন তিনি পডকাস্টের মাধ্যমে অন্যের সঙ্গে শেয়ার করছেন।