বোরকা-শাড়ির ছবি দিয়ে সমালোচকদের জবাব দিলেন বাঁধন, বললেন 'এটি শুধু একটি পোশাক'
বোরকা-শাড়ির ছবি দিয়ে সমালোচকদের জবাব দিলেন বাঁধন

বোরকা-শাড়ির ছবি দিয়ে সমালোচকদের জবাব দিলেন বাঁধন

অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন বহুবার তার পোশাক নিয়ে ট্রলের শিকার হয়েছেন। তার সাজপোশাক নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে, এমনকি কেউ কেউ তাকে বোরকা পরার পরামর্শও দিয়েছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সময় দেশ যখন রাজনৈতিক উত্তেজনায় সরগরম, ঠিক তখন ভোটের পরদিন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি পোস্ট দেন বাঁধন।

ছবি ও বার্তায় কড়া জবাব

পোস্টে তিনি দুটি ছবি কোলাজ করে শেয়ার করেন। একটি ছবিতে দেখা যায় বোরকা পরা বাঁধন, অন্যটিতে শাড়ি পরা অবস্থায় তিনি। এই ছবিগুলোর সঙ্গে তিনি একটি ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা যুক্ত করেন, যেখানে তার পোশাক নিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব দেন। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে যারা তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছিলেন, তাদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, 'এই ছবিটা বিশেষ করে তাদের জন্য, যারা আমাকে ‘বোরকা কিনতে’ বলেছিলেন।'

বাঁধন আরও জানান, 'জানিয়ে রাখি, ছোটবেলা থেকেই আমি আমার দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিত বোরকা পরে আসছি।' তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'আমার কাছে এটি (বোরকা) শুধু একটি পোশাক, এর চেয়ে বেশি কিছুও নয়, কম কিছুও নয়।'

বোরকার ব্যবহারিক দিক

অভিনেত্রী তার বার্তায় বোরকার ব্যবহারিক দিক তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, 'কখনো কখনো এটি পায়জামা ঢাকা দেওয়া বা তেলের চটচটে মাথা লুকানোর মতো সাধারণ কাজ কিংবা জনসম্মুখে ভিড়ে মিশে যাওয়ার জন্য দারুণ কার্যকর। বিষয়টি এতটাই সাধারণ।' এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোরকাকে একটি সাধারণ পোশাক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতে পারে।

নির্বাচন ও দেশপ্রেমের বার্তা

এদিকে, নির্বাচনের প্রসঙ্গে বাঁধন ইতিবাচকভাবে তার বার্তা শেষ করেন। তিনি বলেন, 'নির্বাচনে জয়ী ও বিজিত সবার প্রতি সম্মান জানাই। যারা জয়ী হয়েছেন তাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আর যারা জিততে পারেননি, এই অভিজ্ঞতা নিজেই একটি বিজয়।'

তিনি দেশের ঐক্যের উপর জোর দিয়ে যোগ করেন, 'এটি আমাদের দেশ। সম্মান ও ঐক্য নিয়ে আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমি আমার দেশকে ভালোবাসি।' এই কথাগুলোতে তার দেশপ্রেম ও জাতীয় সংহতির প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় ফুটে উঠেছে।

বাঁধনের এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যেখানে অনেকে তার বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন এবং পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে মত দিয়েছেন। এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা ব্যক্তিগত পছন্দ ও সমাজের সমালোচনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বার্তা দেয়।