অভিনেতা তিনু করিমের অপ্রত্যাশিত মৃত্যু, বরিশালে হার্ট অ্যাটাকে শেষ নিঃশ্বাস
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তিনু করিম আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বরিশালে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরটি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর স্ত্রী হুমায়রা নওশিন। অভিনেতার ১১ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে, যিনি এখন পিতৃহারা হয়েছেন।
মৃত্যুর বিস্তারিত বিবরণ
হুমায়রা নওশিন প্রথম আলোকে বলেন, 'তিনি একদম সুস্থ ছিলেন। তিন দিন আগেই আমরা গ্রামের বাড়ি বরিশালে এলাম। সব ঠিক ছিল; দুপুরের দিকে শরীর খারাপ লাগছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তাররা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হার্ট অ্যাটাকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ডাক্তাররা জানিয়েছে।' এই ঘটনাটি অভিনয় জগতে এক গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য সংকট ও পুনরুদ্ধার
গত বছরের ৮ নভেম্বর বরিশালে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিনেতা তিনু করিম। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকে। ২৪ নভেম্বর তাঁকে ঢাকায় আনা হয় এবং একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
- শরীরের অবস্থা একটু ভালো হলে তাঁকে কেবিনে স্থানান্তরিত করা হয়।
- এরপর রক্তচাপ ও সুগার লেভেল কমে গিয়ে তিনি জ্ঞান হারান।
- ৩ ডিসেম্বর বিকেলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় এবং ২৩ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২৬ ডিসেম্বর আইসিইউতে ফিরিয়ে আনা হয়।
৪০ দিন হাসপাতালে কাটানোর পর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তিনি বাসায় ফিরেছিলেন এবং সম্প্রতি সুস্থতা দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু আজকের এই অপ্রত্যাশিত হার্ট অ্যাটাক সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে।
অভিনয় জীবনের উল্লেখযোগ্য অর্জন
দুই যুগ ধরে অভিনয় জগতে সক্রিয় ছিলেন তিনু করিম। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ২০০১ সালে 'সাক্ষর' নাটক দিয়ে টিভি নাটকে অভিষেক।
- ২০১০ সালে 'অপেক্ষা' সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ।
- 'রাত জাগা ফুল', 'আলতা বানু'সহ অসংখ্য নাটক ও বিজ্ঞাপনে অভিনয়।
একটি মুঠোফোন অপারেটরের বিজ্ঞাপন দিয়ে তিনি বিশেষভাবে পরিচিতি পান এবং দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নেন। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের বিনোদন শিল্পে এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
