অভিনয়ে সততা ও উদ্দেশ্যকেই গুরুত্ব দেন অদিতি ভাটিয়া
অভিনয়ে সততা ও উদ্দেশ্যকেই গুরুত্ব দেন অদিতি ভাটিয়া

শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন অদিতি ভাটিয়া। টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ইয়ে হ্যায় মহব্বতে’ তাকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল। এবার ‘দ্য কেরলা স্টোরি ২’ ছবিতে নজর কেড়েছেন তিনি। সম্প্রতি ফিল্মফেয়ার সাময়িকীতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবনকে ঘিরে কিছু কথা ভাগ করে নিয়েছেন অদিতি ভাটিয়া।

চরিত্রের প্রতি দায়িত্ব

কামাখ্যানারায়ণ সিং পরিচালিত সিনেমাটির অন্যতম চরিত্রে অভিনয় করেছেন অদিতি। তার অভিনীত চরিত্রের নাম দিব্যা। ছবিটির প্রসঙ্গে অদিতি বলেন, ‘আমার দায়িত্ব ছিল আমার চরিত্র এবং তার যাত্রার প্রতি সৎ থাকা। আপনি যদি এর চারপাশের বিতর্ক বা সমালোচনা নিয়ে বেশি ভাবতে শুরু করেন, তাহলে আপনি যা উপস্থাপন করছেন, তার সত্যতা হারানোর ঝুঁকি থাকে।’

অভিনেত্রী জানান, সিনেমায় বাস্তব গল্পগুলোকে সততা নিয়ে তুলে ধরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অদিতির ভাষ্যে, ‘আমার কাছে সব সময় গুরুত্ব পায় উদ্দেশ্য ও সততা। মানুষ কীভাবে সেটা গ্রহণ করবে, তা আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না, কিন্তু আপনি যে সত্যটা তুলে ধরছেন, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা

অদিতি স্বীকার করেন, ছবিটি মুক্তির পর কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, সে সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই ধারণা করেছিলেন। ‘আমি জানতাম, এটা শুধু একটি সিনেমা নয়, এটা এমন একটি আলোচনা, যা সিনেমার সীমা ছাড়িয়ে যাবে,’ তিনি বলেন।

শুটিং ফ্লোরেই বেড়ে ওঠা

শুটিং ফ্লোরেই অদিতির বেড়ে ওঠা, সেই অভিজ্ঞতাই তাকে অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে দিয়েছে। শহীদ কাপুর ও অমৃতা রাও অভিনীত ‘বিবাহ’ ছবিতে অদিতিকে শিশুশিল্পী হিসেবে দেখা গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘পুরোপুরি বুঝে ওঠার আগেই অভিনয়ের জগতে ঢুকে পড়েছিলাম। তাই ক্যামেরা সব সময়ই আমার কাছে পরিচিত এক জায়গা। ছোটবেলায় বিজ্ঞাপন আর ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাকে খুব অল্প বয়সেই সিনেমার শৃঙ্খলা আর কাজের ধরন শিখিয়েছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি দেখতাম, অভিনেতা, পরিচালক, টেকনিশিয়ান—সবাই কীভাবে একসঙ্গে কাজ করেন। সেই পর্যবেক্ষণই আমাকে শিখিয়েছে, শুধু প্রতিভা নয়, ধারাবাহিকতা, আবেগ, সততা আর পেশাদারত্বই একজন শিল্পীকে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখে।’

নির্দিষ্ট ছাঁচে আটকে না থাকা

টেলিভিশনে জনপ্রিয় মুখ হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে নির্দিষ্ট ছাঁচে আটকে ফেলতে চাননি অদিতি। তার কথায়, ‘আমি সচেতনভাবে আমার বয়সের চেয়ে অনেক বড় চরিত্র করিনি। কারণ, খুব তাড়াতাড়ি একটি ইমেজে আটকে যেতে চাইনি। টেলিভিশন আমাকে পরিচিতি দিয়েছে, কিন্তু সিনেমা দর্শকদের নতুনভাবে দেখতে শেখায়। এই পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ। তবে আমার কাছে বিষয়টা ছিল নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরা।’

বিরতি ও আত্মসংযোগ

কিছুদিন টেলিভিশন থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে অদিতি বলেন, ‘এই বিরতি আমাকে নিজের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ করার সুযোগ দিয়েছে। ছোটবেলা থেকে একের পর এক কাজ করতে করতে কখনো থেমে ভাবার সময় পাওয়া যায় না যে আসলেই কী করতে চাই। সেই সময়টা আমাকে বুঝিয়েছে যে অনিশ্চয়তার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার সাহস কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রশংসা ও সমালোচনা

কাজকে ঘিরে দর্শকের প্রশংসা ও সমালোচনা—দুটোই সামলানোর প্রসঙ্গে অদিতির মন্তব্য, ‘ছবি মুক্তির পর সেটি দর্শকদের হয়ে যায়, সবাই নিজের মতো করে তা বিচার করে। প্রশংসা যেমন আনন্দ দেয়, তেমনই সমালোচনাও বাস্তবতার অংশ। আর সমালোচনা থেকে নিজের ভুলত্রুটি শুধরে নিতে পারি। তবে কোনোটাই যেন নিজের পরিচয় হয়ে না দাঁড়ায়—কাজটাই আসল ভিত্তি হয়ে থাকতে হবে।’

বহিরাগতদের সুযোগ

বহিরাগতদের সুযোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে অদিতি স্পষ্ট করে বলেন, ‘অনেক সময় ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির চেনা গণ্ডির বাইরেও অসাধারণ প্রতিভা আছে, যাদের সমান সুযোগ দেওয়া হয় না। আমি চাই কাস্টিং এমন হোক, যেখানে নতুনদের আবিষ্কার করার জায়গা থাকবে।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে দেখতে চান অদিতি। তার কথায়, ‘আমি এখন দর্শকদের চমকে দিতে চাই। রোমান্স, সাইকোলজিক্যাল ড্রামা বা হালকা মেজাজের গল্প—সবকিছুতেই কাজ করতে চাই। আমি চাই না দর্শক ভাবুক, আমার সব দিক তারা দেখে ফেলেছে।’

বলিউড তারকাদের মধ্যে রণবীর কাপুরের সঙ্গে কাজ করতে চান অদিতি। রণবীরের সাবলীল অভিনয় তাকে সব সময় মুগ্ধ করে।