মা দিবসে ববিতার আবেগঘন গল্প: সিঙ্গেল পেরেন্টের সংগ্রাম ও মাতৃত্বের জয়
মা দিবসে ববিতার আবেগঘন গল্প: সিঙ্গেল পেরেন্টের সংগ্রাম

মা দিবস উপলক্ষে সম্মাননা পদকে ভূষিত হয়েছেন ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। শনিবার (৯ মে) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘মা পদক ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত। এ সময় নিজের জীবনের সংগ্রাম, একাকিত্ব আর মাতৃত্বের আবেগঘন গল্প শোনান এই অভিনেত্রী।

মাতৃত্বই নারীর পূর্ণতা

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ববিতা বলেন, “একটি নারীর পূর্ণতা আসে তার মাতৃত্ব দিয়ে। সন্তান একজন মায়ের জীবনে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।” তিনি আরও বলেন, “আমার মা ছিলেন একজন চিকিৎসক। মা চলে যাওয়ার পর বড় বোন সুচন্দা ছোট ভাইবোনদের আগলে রাখেন। এরপর স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে আমি কাজ করে গেছি নিরন্তর।”

সিঙ্গেল পেরেন্টের সংগ্রাম

ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়ের মধ্যেই মা হন ববিতা। তার ছেলে অনিককে ঘিরেই আবর্তিত হতে থাকে জীবনের নতুন অধ্যায়। তিনি বলেন, “চলচ্চিত্রে তখন আমি খুব ব্যস্ত। তারপরেও আমার হৃদয়জুড়ে সবসময় অনিক ছিল। তার যত্ন, তার সবকিছু আমি নিজেই দেখতাম।” ছোটবেলাতেই পিতৃহারা হয় অনিক। এরপর একাই সন্তানের মা ও বাবার দায়িত্ব পালন করেন এই অভিনেত্রী। ববিতার ভাষায়, “আমি একজন সিঙ্গেল পেরেন্ট হিসেবে অনেকের মা এবং বাবা—দুই ভূমিকাই পালন করেছি।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শূন্যতার অধ্যায়

পরে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নিয়ে কানাডায় চলে যান তার ছেলে। সেই সময়টাকে জীবনের সবচেয়ে শূন্য অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন ববিতা। তিনি বলেন, “আমার পৃথিবী তখন শুধুই শূন্যতা। পরে আমি ছুটে যাই কানাডায়।” স্বামী হারানোর পর জীবনে নতুন মানুষ আসার সুযোগ থাকলেও নিজেকে পুরোপুরি সন্তানের মাঝেই ডুবিয়ে রেখেছিলেন তিনি। আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “অনেক পিতৃহারা হওয়ার পর আমার জীবনে অনেকেই আসতে চেয়েছিলেন। পরিবারেরও সম্মতি ছিল। কিন্তু আমি শুধু আমার সন্তানের মাঝেই মিশে গেলাম।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সন্তানের সাফল্যই জীবনের শান্তি

বর্তমানে তার ছেলে কানাডার একটি বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছেন। সন্তানের সাফল্য নিয়েই এখন জীবনের সবচেয়ে বড় শান্তি খুঁজে পান এই অভিনেত্রী। ববিতা বলেন, “আমার সন্তানই আমাকে জীবনে চলার পথের আলো দেখিয়েছে। বাকি জীবন আমি আমার সন্তানের ভালোবাসা নিয়েই কাটিয়ে দিতে চাই।”

ধর্মীয় উদ্ধৃতি

মাতৃত্ব প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতিও টানেন তিনি। সূরা কাহাফের ৪৬ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলেন, “‘ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা।’ মহান আল্লাহ আমাকে সেই নেয়ামত দিয়েছেন।”

আলী-রূপা ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শুধু ববিতা নন, অভিনেতা আহসান হাবিব নাসিম, নাজনিন হাসান চুমকি, সংগীতশিল্পী রাশেদ, অভিনেত্রী হিমি, উপস্থাপিকা ফারহানা ন্যান্সিসহ মোট ১২ জন গুণী ব্যক্তির মায়েদেরও দেওয়া হয় ‘মা পদক ২০২৬’।