ফরাসি-মরোক্কান অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেসের অকাল প্রয়াণ
ফরাসি-মরোক্কান অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস প্যারিসের একটি জিমের সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার এক সপ্তাহ পর হাসপাতালে মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে মণ্ড-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ এপ্রিল রোববার প্যারিসের একটি জিমের সুইমিং পুল থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি কোমায় চলে যান এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার শহরের পিতিয়ে সালপেত্রিয়ের হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিবার
ফারেসের মেয়ে সিলিয়া ও শানা চাসম্যান ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক বিবৃতিতে তারা জানান, “গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, শুক্রবার নাদিয়া ফারেস আমাদের ছেড়ে গেছেন। ফ্রান্স একজন অসাধারণ শিল্পীকে হারিয়েছে।” ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে লে মণ্ড।
নাদিয়া ফারেসের স্বাস্থ্য সংকটের ইতিহাস
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৭ সালে ফারেসের মস্তিষ্কে অ্যানিউরিজম ধরা পড়েছিল এবং সে সময় তিনি অস্ত্রোপচার করান। সেসময় নিজের শারীরিক অবস্থাকে তিনি ‘টাইম বোমা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়া জীবনে তিনবার হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারও করিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। এই দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো তার শেষ সময়ের ট্র্যাজেডির পটভূমি তৈরি করেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
জীবন ও কর্মজীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর মরক্কোর মারাকেশে জন্ম নেওয়া ফারেস শৈশব কাটান ফ্রান্সের নিস শহরে। অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে পরে প্যারিসে যান। ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। পরবর্তীতে হলিউডসহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি, যা তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা দেয়।
মেয়ের আবেগঘন শোক প্রকাশ
মায়ের মৃত্যুর পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে মেয়ে সিলিয়া লিখেছেন, এই শোক তিনি কখনোই কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। মায়ের সঙ্গে শেষ সময়গুলোতে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি মাকে নিজের আদর্শ ও সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা ফারেসের ব্যক্তিগত জীবনের গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়।
নাদিয়া ফারেসের এই আকস্মিক মৃত্যু শিল্পী মহলে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে, এবং তার অবদান সিনেমা জগতে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা জানানো হচ্ছে এই দুঃসময়ে।



