বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আমির খান জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে যাচ্ছেন। প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করতে চলেছেন তিনি। তবে তারকা জীবনের সঙ্গে মানানসই কোনো আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন নয়, বরং একান্ত ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হবে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।
বিয়ের তারিখ ও স্থান
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, আগামী ৫ জুলাই মুম্বাইয়ে নিজের বাসভবনে আইনিভাবে বিয়ে করবেন আমির ও গৌরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দুই পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বড় পরিসরের অনুষ্ঠান, তারকাখচিত অতিথি তালিকা কিংবা অতিরিক্ত জাঁকজমক থেকে দূরে থাকতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
আমিরের বক্তব্য
এক সাক্ষাৎকারে আমির খান বলেন, ‘আমরা দুজনই বিষয়টিকে খুব সাধারণ রাখতে চাই। চাকচিক্য ও জাঁকজমক থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে চাই। আমাদের পরিবারের সঙ্গে আমরা গভীরভাবে যুক্ত। তাই তাদের উপস্থিতিতেই সবকিছু সম্পন্ন হবে। বাড়িতেই ছোট পরিসরে রেজিস্টার্ড ম্যারেজ হবে।’
গৌরীর সঙ্গে সম্পর্ক
গৌরীর সঙ্গে আমিরের সম্পর্কের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত বছর অভিনেতার জন্মদিনে। পরে তিনি জানান, দীর্ঘদিন পর জীবনে এমন একজন মানুষকে পেয়েছেন, যিনি তার জীবনে প্রশান্তি ও স্থিরতা নিয়ে এসেছেন। গৌরী সম্পর্কে আমিরের ভাষায়, ‘সে আমার জীবনে অনেক শান্তি এনেছে। নিজেকে সত্যিই ভাগ্যবান মনে করি যে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে।’
পূর্ববর্তী সংসার ও বর্তমান অবস্থান
নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দিতে গিয়ে আমির আরও বলেন, তার আগের দুই সংসার টেকেনি ঠিকই, তবে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রীনা দত্ত, কিরণ রাও এবং এখন গৌরী—এই তিনজনই তার ব্যক্তিগত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের প্রতি তিনি গভীর সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ছোটবেলার বন্ধু রীনা দত্তকে ১৯৮৬ সালে বিয়ে করেছিলেন আমির খান। তাদের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান—জুনায়েদ ও ইরা। প্রায় ১৬ বছর সংসার করার পর ২০০২ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন তিনি। চলচ্চিত্র Lagaan-এর শুটিংয়ের সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল। দ্বিতীয় সংসারও প্রায় ১৬ বছর স্থায়ী হয় এবং ২০২১ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। তবে ছেলে আজাদের দায়িত্ব তারা যৌথভাবেই পালন করে আসছেন।
নতুন জীবনের সূচনা
এবার জীবনের ষাটতম বছরে এসে গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে নতুন পথচলা শুরু করতে যাচ্ছেন আমির খান। জাঁকজমক নয়, বরং ভালোবাসা, পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বন্ধনকেই প্রাধান্য দিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে এই বিশেষ দিনটি।



