বাংলা নাটক ও গানের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘মাটির সুরে, মুক্তির সুরে, হৃদয়ের সুরে: থিয়েটারের গান’। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডি ২৭-এর ভিন্টেজ কফি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাটকের নির্বাচিত গান পরিবেশন করে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নাট্যদল আরণ্যক।
আয়োজন ও বক্তব্য
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘গাই বাংলার গান পর্ষদ’। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক ফজলুল কবীর তুহিন। তিনি বলেন, বাংলা নাটক ও গান একে অপরের পরিপূরক। বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে গানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ের নৈরাজ্য ও বিভাজনের বিরুদ্ধে বাংলা গান নতুন আশার জায়গা হয়ে উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় সদ্যপ্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানের স্মৃতির প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
পরে বক্তব্য দেন আরণ্যক নাট্যদলের প্রধান নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে একটি সাংগীতিক সমাজ গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল। বিশ্বের অনেক দেশে শক্তিশালী সংগীতভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন তৈরি হলেও নানা কারণে বাংলাদেশে তা পূর্ণতা পায়নি। তবে এ ধরনের আয়োজন সেই স্বপ্নকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে।”
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
সাংস্কৃতিক পর্বে আরণ্যক তাদের জনপ্রিয় প্রযোজনা ‘সংক্রান্তি’, ‘কবর’, ‘জয়জয়ন্তী’, ‘পাথর’, ‘জুবলি’, ‘হোটেল’, ‘ইবলিশ’, ‘রাঢ়াঙ’ ও ‘নানকার পালা’সহ বিভিন্ন নাটকের নির্বাচিত গান পরিবেশন করে। এছাড়া ‘মাটির মহাজন’, ‘ঘুমের মানুষ’ ও ‘মঙ্গা কাহিনি’ পথনাটকের গানও পরিবেশিত হয়। প্রাণবন্ত পরিবেশনা ও নাট্যগানের আবহে মুগ্ধ হয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শকরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক রিবন খন্দকার এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হাবিবুল ইসলাম। উন্নয়নকর্মী শাশ্বতী বিপ্লব বলেন, “সমাজে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন আরও বাড়ানো প্রয়োজন। নাগরিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এমন শৈল্পিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক আবু রেজওয়ান ইউরেকা ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী আয়োজনগুলোতেও অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
গান, নাটক ও সংস্কৃতির নিবিড় সম্পর্ককে উদযাপন করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আয়োজকদের বিশ্বাস, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলা সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাবাহিকতা রক্ষায় নতুন প্রেরণা জোগাবে।



