মামুনুর রশীদ: ভিউ বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সংকোচনে শিল্পের সর্বনাশ
মামুনুর রশীদ: ভিউ বাণিজ্যে শিল্পের সর্বনাশ

মামুনুর রশীদ: ভিউ বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সংকোচনে শিল্পের সংকট

নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেছেন, 'ভিউ বাণিজ্য এসে আমাদের যে সর্বনাশটা হয়েছে আমাদের শিল্পে, সেই সর্বনাশের কাঁধে আজকে আমরা বসে আছি।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিল্পে সংকোচন ও রাজনৈতিক চাপের কারণে শিল্পীরা সৃজনশীলতা প্রকাশ করতে পারছেন না।

সেমিনারে মামুনুর রশীদের বক্তব্য

আজ রোববার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে 'তৌকীর আহমেদ: আমাদের সংস্কৃতি ও শিল্পীর দায়' শীর্ষক সেমিনারে মামুনুর রশীদ তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন। এই আয়োজনটি সুহৃদ সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সেমিনারে তিনি বলেন, 'একদিকে হচ্ছে আমাদের শিল্পে সংকোচন, রাজনৈতিক সংকোচন। গত ১৭টি মাস আমাদের ওপর রাজনৈতিক সংকোচন চলেছে। আমরা ভালো কোনো কিছু নির্মাণ করার কথা ভাবতেই পারি না। আমাদের প্রেরণাহীন একটা সময় আমরা কাটিয়েছি। এর আগেও আমাদের বারবার আমাদের শিল্পের সংকোচন হয়েছে, আমরা ব্যথিত হয়েছি।'

গণতান্ত্রিক বিকাশ ও শিল্পের স্বাধীনতা

মামুনুর রশীদ তাঁর ভাষ্যে যোগ করেন, 'একটা দেশে গণতান্ত্রিক বিকাশ হলে যেটা হয়, আমাদের পাশের দেশ ভারতবর্ষ বা আমরা আরও যদি উন্নত বিশ্বের কথা ভাবি, সেখানে শিল্পীরা নিজেদের প্রকাশ করতে পারেন, অসংকোচে প্রকাশ করতে পারে; কিন্তু সেই অসংকোচটা আমাদের জীবনে আসেনি।' তিনি মনে করেন, এই সংকোচনের মধ্য দিয়েই তৌকীর আহমেদের মতো অসংখ্য শিল্পীর বিকাশ ঘটেছে, কিন্তু তা এখনও পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা পায়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিল্পের কনটেন্ট ও ফর্মের গুরুত্ব

আয়োজনটি সম্পর্কে মামুনুর রশীদ বলেন, 'আমরা এটাই প্রত্যাশা করব যে শুধু ব্যক্তি নয়, ব্যক্তির জন্মদিন নয়, আমরা চেষ্টা করব তাঁদের কাজগুলোকে এ রকম একটা আলোচনার টেবিলে হাজির করা, যাতে আমরা কনটেন্টটা দেখতে পাই। শুধু ফর্ম না, কনটেন্টও দেখতে পাই।' তিনি শিল্পে কেবল বাহ্যিক রূপ নয়, বরং গভীর বিষয়বস্তুর ওপর জোর দেন, যা বর্তমান ভিউ বাণিজ্যের যুগে প্রায়শই উপেক্ষিত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিল্পের ভবিষ্যৎ ও চ্যালেঞ্জ

মামুনুর রশীদের মতে, ভিউ বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সংকোচন শিল্পের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আলোচনা ও সচেতনতার মাধ্যমে শিল্পীরা তাদের সৃজনশীলতা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। এই সেমিনারটি শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা শিল্পীদের দায়িত্ব ও সম্ভাবনা নিয়ে ভাবনা তৈরি করছে।