আড্ডায় তিন অভিনয়শিল্পী: চরিত্রের নামেই ডাকেন দর্শক
আড্ডায় তিন অভিনয়শিল্পী: চরিত্রের নামেই ডাকেন দর্শক

ঢাকার তেজগাঁওয়ের একটি শুটিং বাড়িতে 'এটা আমাদেরই গল্প' নাটকের তিন অভিনয়শিল্পী ইরফান সাজ্জাদ, খায়রুল বাসার ও কেয়া পায়েল একসঙ্গে আড্ডা দিলেন। অন্য একটি নাটকের শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকা এই তিনজন জানালেন, এখন বেশির ভাগ শুটিংয়ে বা বাইরে গেলে সবাই তাঁদের চরিত্রের নামেই ডাকেন।

চরিত্রের নামে ডাকার অভিজ্ঞতা

শুরুতেই কেয়া পায়েল জানান, 'দুই-তিন পর্ব প্রচারের পর বন্ধুদের নিয়ে মার্কেটে শপিং করতে গিয়ে একজন আমাকে মেহরীন বলে ডাকেন। আমি ঘুরে তাকাই। বন্ধুরা বলেন, তোকে ডাকে না। কিন্তু আমি বুঝি আমাকে ডাকছে। সবার ঘিরে ধরায় ভালো লাগে। আমি সব সময় চেয়েছি এভাবে ডাকুক, সেটা পূরণ হয়েছে।'

ইরফান সাজ্জাদ বলেন, 'দেশের বাইরে গিয়েও প্রবাসী দর্শকেরা ফাহাদ নামে ডাকতেন। পরে দেশে এসে মেডিসিন কিনতে গিয়ে এক লোক জিজ্ঞাসা করে, গাড়ি কি নিজের টাকায় নাকি শ্বশুরের টাকায় কিনেছেন? আমি রেগে গিয়ে ধমক দিই। পরে বুঝি সে ফাহাদ চরিত্রের কথাই বলছে। পরে ক্ষমা চেয়ে বলি, ভাই আমার টাকায় গাড়ি কিনেছি।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের ছোট ছেলে হিসেবে জনপ্রিয়তা

খায়রুল বাসার বলেন, 'পরিবারের ছোট ছেলে চরিত্রটি পছন্দ ছিল। কক্সবাজারে শুটিংয়ে গেলে সবাই সামিরের সঙ্গে ছবি তুলতে চায়। টিমের সদস্যরা সরিয়ে দিচ্ছিলেন। আমি ভেবেছিলাম অন্য কেউ ভেবে এসেছে। পরে বুঝি সামির আমিই। রাস্তাঘাটে রিকশাচালক থেকে সবাই সামির বলে ডাকে। শুটিংয়ে পুরো রাস্তায় জ্যাম লেগে যেত।'

কেয়া পায়েল যোগ করেন, 'যেখানেই যাই, জিজ্ঞেস করে মেহরীন আপু, সামির কেমন আছে।'

জনপ্রিয়তার কারণ

খায়রুল বাসার মনে করেন, 'চরিত্রটি দর্শকের কাছে পরিবারের ছেলে হয়ে উঠেছে। বহুদিন পর মা-বাবা, ভাই-বোন, ফুফু সবার মধ্য দিয়ে দর্শক পরিবারের গল্পটি রিলেট করতে পেরেছেন। তাঁদের কাছে হয়ে উঠেছে এটা আমাদেরই পরিবারের গল্প।'

কেয়া পায়েল বলেন, 'আমি ও সামির এতটাই পপুলার যে, সবাই এখন মেহরীনের স্বামীর মতো জামাই চায়। আর এত মানুষ আমার প্রেমে পড়ছে, আমি অবাক হয়ে যাই।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরফান সাজ্জাদ বলেন, 'নাটকে ফ্যামিলি কালচার প্রাধান্য পেয়েছে। আমরা ঘরে যা প্র্যাকটিস করি, তা গল্পে উঠে এসেছে। পরিবারের মধ্যে ম্যানারিজম রয়েছে, যা অনেক দিন পর পারিবারিক গল্পে এসেছে।'

বাসার আরও বলেন, 'নাগরিক জীবনে ব্যস্ততায় পরিবারের সঙ্গে এক টেবিলে বসে খাওয়া হয় না। গল্পটি দর্শকদের নস্টালজিক করেছে, যা আমাদের কালচার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।'

ভালোবাসা আর গালাগাল

বেশির ভাগ দর্শক প্রশংসা করলেও চরিত্র নিয়ে বিরূপ অভিজ্ঞতাও হয়েছে। খায়রুল বাসার বলেন, 'মাঝখানে ভাইরাল হয়েছিল পুরুষ কী চায়, নারী কিসে আটকায়। তখন শুনতে হয়েছে ফাহাদ কিসে আটকাবে, ফাহাদ কী চায়।' কেয়া পায়েল যোগ করেন, 'ফাহাদ নারী, টাকা নাকি সুখ, কী চায় এগুলো নিয়মিত শুনতে হয়েছে।'

ইরফান সাজ্জাদ বলেন, 'ফাহাদ চরিত্রটি তুলে ধরা সহজ ছিল না। তার মুড সুইং হয়, মেহরীন, সায়েরার প্রেমে পড়ে। তবে তার মধ্যে নৈতিকতা আছে। ৯৯ ভাগ ভালো, কিন্তু ১ পারসেন্ট একটু থাকে। যে কারণে বাইরে বের হলেই গালাগাল সহ্য করেছি।'

খায়রুল বাসার যোগ করেন, 'বাপের বাসা বিক্রি করে দেওয়ার পর গালির শেষ নেই। আমাকে পর্যন্ত শুনতে হয়েছে, আপনার ভাই ফাহাদ খারাপ কেন, আপনি জানেন সে বাসা বিক্রি করে দিছে।'

সাজ্জাদ আরেকটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, 'কয়েক দিন আগে রাস্তায় গাড়িতে বসে আছি। একজন এসে বললেন, ভাই কাজটা আপনি ঠিক করলেন না। শুরু করলেন গালাগাল। ওরা বাইরে গেলে ভালোবাসা পায়, আর আমি গালাগাল শুনি।'

পছন্দের দৃশ্য

ইরফান সাজ্জাদ মনে করেন, 'বাবা মারা যাওয়ার পর আমার রিঅ্যাকশন দৃশ্যটি এখন পর্যন্ত আমার সেরা দৃশ্য। কান্নার দৃশ্যটি তুমুল আলোচনায় এসেছিল। প্রস্তুতি ছিল, কোনো গ্লিসারিন ব্যবহার করিনি।'

খায়রুল বাসার বলেন, 'গল্পের শুরুতে আমি গান গাইতে গাইতে আসছি, বাবা বলেন নচিকেতা আসছেন। দৃশ্যের আন্তরিকতা ভালো লেগেছিল। মায়ের শাসন খুব মিষ্টি ছিল। আরেকটি দৃশ্যে পায়েল কিছু ভেঙে ফেলে, তখন মা কে ভেঙেছে জানতে চায়।' কেয়া পায়েল বলেন, 'সেই দৃশ্যটি আমারও সবচেয়ে পছন্দের। রোমান্টিক দৃশ্যে সামির পেছন থেকে এসে বলে, এটা আমি ভাঙছি, আমি কিনে দিব।'

পরিবারকে মিস করছি

কিছুদিন শুটিং না করায় টিম ও নাটকটিকে ভীষণ মিস করছেন শিল্পীরা। ইরফান সাজ্জাদ বলেন, 'আমি সায়েরাকে মিস করছি।' খায়রুল বাসার বলেন, 'নাদের ভাই, মিঠু আপার সঙ্গে দেখা হয় না। পায়েল, সাজ্জাদের সঙ্গে অনেক দিন পর দেখা হলো। এটাকে বাস্তবের একটি পরিবার মনে হতো। এই পরিবারকে মিস করছি।'

কেয়া পায়েল বলেন, 'ক্যামেরার বাইরে আমাদের কারও সঙ্গে কারও বিন্দুমাত্র দ্বন্দ্ব নেই। নাটকে যেটা দেখানো হয়েছে, সেটাই ছিল। শুটিংয়ের পর বাইরে বের হলে সবাই জানতে চাইতেন, এরপরে কী ঘটবে। এটা মিস করব।'

খায়রুল বাসার যোগ করেন, 'টানা সাত দিন শুটিং করলেও কোনো ক্লান্তি ছিল না। মন এখনো শুটিংয়ে পড়ে থাকে।' ইরফান সাজ্জাদ বলেন, 'শেষ দিনে কেঁদেই ফেলেছিলাম।'

বাসার আরও জানান, 'অনেক ভক্ত লিখেছেন, নাটকের গান না শুনলে বাচ্চা খেতে চায় না। একটি বাচ্চা বলেছে, তুমি সামির না? তোমার ওয়াইফের নাম কি মেহরীন? তোমার ভাইয়ের নাম ফাহাদ। আমাদের বাসায় আসো। এই ভালোবাসা মিস করব।'

পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজ হোয়াটসঅ্যাপে আড্ডার ইতি টানেন, 'দর্শকদের ভালোবাসা আমাকে ঋণী করেছে। পরিবারকেন্দ্রিক গল্প আরও নির্মাণ করতে হবে। দিন শেষে মানুষ পরিবারের সঙ্গে থাকতে চায়। দর্শক যেন বলে ওঠেন, এটা আমাদেরই গল্প।'