নাটক 'জখম' মুক্তির দুই দিনে ৫৫ লাখ দর্শক, তৌসিফ-তটিনীর অভিনয়ে মুগ্ধতা
গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের সাদামাটা মেয়ে রাইসা। স্বভাবে একটু চুপচাপ হওয়ায় সহজে কারও সঙ্গে মিশতে পারে না সে। অন্যদিকে পার্থ এক সম্ভ্রান্ত যৌথ পরিবারের ছেলে। তার মা-বাবা, ভাইবোন সবাই প্রাণখোলা ও মিশুক স্বভাবের। দুই ভিন্ন জগতের এই ছেলে-মেয়ে একসময় এসে মিলে যায় ভালোবাসার বন্ধনে।
ধর্ষণের প্রতিশোধকে কেন্দ্র করে নির্মিত নাটক ‘জখম’ মুক্তির মাত্র দুই দিনেই ৫৫ লাখের বেশি দর্শক দেখেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় ভরে উঠেছে চারপাশ। ইউটিউবের মন্তব্যে একজন দর্শক লিখেছেন, ‘খুব শক্তিশালী উপস্থাপনা। এই ধরনের গল্প সমাজের অন্ধকার দিকটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।’
দর্শকদের প্রশংসা ও অভিনয়ের মুগ্ধতা
আরেকজনের মন্তব্য, ‘হাজারো ধর্ষিতা নারীর জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।’ কেউ কেউ এটিকে এমন একটি কাজ বলছেন, যা জাতি দীর্ঘদিন মনে রাখবে। নাটকটিতে পার্থ চরিত্রে তৌসিফ মাহবুবের অভিনয় দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। এক তরুণী লিখেছেন, ‘এটা কি ছিল! অসাধারণ! তৌসিফের অভিনয়ে মুগ্ধ।’ পরিচালকের প্রশংসায় আরেকজন লিখেছেন, ‘সমাজের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য ধন্যবাদ।’
ইমরাউল রাফাতের পরিচালনায় ‘জখম’ নাটকে রাইসা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানজিম সাইয়ারা তটিনী এবং পার্থ চরিত্রে তৌসিফ মাহবুব। পরিচালকের ভাষায়, ‘এটি মূলত প্রতিশোধের গল্প। ধর্ষণের শিকার নারীদের সমাজ কীভাবে দেখে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিশোধ— এই বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। একদিনেই ৪০ লাখের বেশি দর্শক নাটকটি দেখেছে, যা প্রমাণ করে দর্শকরা কাজটি গ্রহণ করেছে।’
অন্যান্য শিল্পীদের অবদান
নাটকটির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন লুৎফর রহমান জর্জ, মনিরা আক্তার মিঠু, আনোয়ার শাহী, সাবিহা জামান, রিমু রেজা খন্দকার ও ইসরাত অতিথি প্রমুখ। এই শিল্পীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা নাটকটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
দর্শকদের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ‘জখম’ শুধু একটি বিনোদনমূলক নাটক নয়, বরং এটি সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে সাহসিকতার সঙ্গে উপস্থাপন করে নাটকটি দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান আলোচনা এবং দর্শক সংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি প্রমাণ করে, ‘জখম’ নাটকটি বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এটি ভবিষ্যতে আরও এমন সাহসী ও সমাজসচেতন নাটক নির্মাণের পথ প্রশস্ত করতে পারে।



