বাংলাদেশে মৌলবাদবিরোধী আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলা সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত রাখার ধারাবাহিক প্রয়াসে ‘গাই বাংলার গান পর্ষদ’ শুরু করতে যাচ্ছে নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘থিয়েটারের গান’।
২৫ মার্চের কালরাতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা কিংবা শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন—সব সময়ই জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এই সংগঠনটি। তারই ধারাবাহিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নাটক ও সংগীতের মেলবন্ধনে বাংলার শিল্প-ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
থিয়েটারের গান: নাট্য-সংগীতের মেলবন্ধন
আয়োজকরা জানান, এটি মূলত মঞ্চনাটক ও পথনাটকের গানকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি থিয়েট্রিক্যাল পারফরম্যান্স। গানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নাটকের আবহ, বর্ণনা এবং প্রয়োজনীয় সংলাপ যুক্ত করে পুরো পরিবেশনাকে একটি পূর্ণাঙ্গ নাট্য-সংগীত অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়া হবে।
প্রথম আসরে আরণ্যক নাট্যদল
এই আয়োজনের প্রথম আসরে মঞ্চস্থ হবে বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী নাট্যদল ‘আরণ্যক’-এর পরিবেশনা। তারা নাটক ও সংগীতের সমন্বয়ে থিয়েটার-সংগীতের শেকড়, সংগ্রাম ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা ফুটিয়ে তুলবেন। উদ্বোধনী আসরে আরণ্যকের পরিবেশনায় থাকবে ‘রাঢ়াঙ’, ‘সঙক্রান্তি’, ‘ময়ূর সিংহাসন’, ‘জয়জয়ন্তী’, ‘পাথর’, ‘দি জুবলী হোটেল’, ‘ঘুমের মানুষ’, ‘মূর্খ লোকের মূর্খ কথা’ এবং ‘আগুনের জবানবন্দি’সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় নাটকের গান।
পরিবেশনা প্রসঙ্গে আরণ্যক নাট্যদলের প্রশিক্ষণ সম্পাদক অপু মেহেদী বলেন, “আমরা মূলত মঞ্চনাটক ও পথনাটক—দুই মাধ্যমের গান মিলিয়েই পারফর্ম করব। শুধু গান নয়, গানের ভেতরের নাট্যভাব ও সংলাপের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ থিয়েট্রিক্যাল আবহ তৈরি করা হবে, যা দর্শকদের ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা দেবে।”
মৌলবাদবিরোধী সংস্কৃতি চর্চার হাতিয়ার
‘গাই বাংলার গান পর্ষদ’-এর পক্ষে ফজলুল কবীর তুহিন বলেন, “মৌলবাদের বিরুদ্ধে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত রাখার লড়াইয়ে ‘থিয়েটারের গান’ আমাদের একটি সাংস্কৃতিক হাতিয়ার। দর্শকের উপস্থিতিই আমাদের এই যাত্রাকে অর্থবহ করবে।”
আয়োজনের তারিখ ও স্থান
আয়োজনটি আগামী ১৮ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে অবস্থিত ‘ভিনটেজ কনভেনশন হল’-এ অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় দর্শকদের আগাম নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রবেশ নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
এই আয়োজনের মাধ্যমে গাই বাংলার গান পর্ষদ তাদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করছে, যা বাংলার শিল্প-ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



