জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থান
জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনড়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতারে প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে অনড় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে শুক্রবার রাতভর উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবি

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। বরং প্রক্টর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘ষড়যন্ত্রকারী’ আখ্যা দিয়েছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে এমন অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে রবিবার থেকে রেজিস্ট্রার অফিসও তালাবদ্ধ করা হবে।

বিক্ষোভের ধারাবাহিকতা

শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে তারামন বিবি হল থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন ছাত্রী হল প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিভিন্ন হলের নারী শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলমসহ পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা এবং অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রক্টরিয়াল বডি ‘নৈতিক অধিকার’ হারিয়েছে। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, ‘গত প্রায় দুই বছরে ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ কারণেই তাদের পদত্যাগ দাবিতে সবাই একমত হয়েছেন।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপাচার্যের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা

পরে রাত আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান। এ সময় প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোনও শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে তা প্রক্টরিয়াল বডি দেখে। তবে বহিরাগত কেউ অপরাধ করলে সেটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত।’

তার এ বক্তব্যে তাৎক্ষণিক ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য বলেন, ‘সবকিছুর নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এভাবে বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে প্রক্টরের পদত্যাগ হয় না। দায়িত্ব পালনে প্রক্টরিয়াল বডির কোনও গাফিলতি ছিল কিনা, তা তদন্ত কমিটি গঠন করে খতিয়ে দেখা হবে।’ তবে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

ঘটনার বিবরণ

এর আগে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার সম্ভব না হলে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করা হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে— দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করা; ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার; হেনস্তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিয়ে কুইক রেসপন্স টিম গঠন; শিক্ষার্থীদের জন্য সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।