বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ যাত্রাশিল্প এবং সার্কাসকে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুনরুজ্জীবিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সরকার। বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা ভবনের সেমিনার কক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘সার্কাস ও যাত্রাপালা মানোন্নয়ন কর্মশালা’ এবং ‘বাংলাদেশের সার্কাস: ঐতিহ্য, শিল্পরূপ ও সংকট’ শীর্ষক সেমিনারের সমাপনী দিনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এই ঘোষণা দেন।
মন্ত্রীর বক্তব্য
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রাচীন ইতিহাস ও সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বর্তমান সরকার সংস্কৃতির বন্ধ্যাত্ব দূর করে বিশ্ব দরবারে এই মহান ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর। বক্তব্যের শুরুতে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, তরুণ ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে এ দেশে এক নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় রূপান্তর তথা ‘ট্রান্সফরমেশন’ সাধিত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এবং এই নতুন বাংলাদেশে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ অপরিহার্য।
যাত্রা ও সার্কাসকে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী গণমাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এর নামে কোনো ধরনের জীবনবিমুখ, অশ্লীল কর্মকাণ্ড বা নগ্ন নৃত্য সহ্য করা হবে না। সুস্থ ও রুচিশীল বিনোদন নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি যাত্রাদল ও সার্কাস মালিকদের হয়রানি বন্ধে এখন থেকে প্রাথমিক অনুমতি জেলা প্রশাসনের পরিবর্তে সরাসরি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী ও অন্যান্য বক্তা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এই শক্তিশালী সাংস্কৃতিক মাধ্যমটিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে বাচনভঙ্গি, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, প্যান্ডেল ব্যবস্থাপনা এবং বাদ্যযন্ত্রে আধুনিকতার ছোঁয়া আনা জরুরি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) জনাব ড. জাহেদ উর রহমান এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জনাব জুবায়ের বাবু।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ
সেমিনারে ‘বাংলাদেশের সার্কাস: ঐতিহ্য, শিল্পরূপ ও সংকট’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট গবেষক ড. সাইমন জাকারিয়া। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ইউসুফ হাসান অর্ক এবং বিশিষ্ট প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা জনাব ঝুমুর আসমা জুঁই। এছাড়া মাঠপর্যায়ের বাস্তব সংকট ও সম্ভাবনা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন দি গ্রেট রওশন সার্কাসের প্রোপাইটর জনাব শেখ আফতাব উদ্দিন এবং বাংলাদেশ সার্কাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন মিয়া।
সভাপতির বক্তব্য ও সমাপ্তি
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ্ কানিজ মওলা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জনাব শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে দেশের শীর্ষস্থানীয় শতাধিক যাত্রাদল ও সার্কাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি, প্রবীণ কলাকুশলী এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



