গায়ক নোবেলের জামিন বাতিল, আদালতের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ
ঢাকার একটি আদালত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন বাতিল করেছেন এবং তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এই আদেশ জারি হয়েছে।
আদালতের শুনানি ও আদেশ
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালতে শুনানির পর এই আদেশ পাস করা হয়। আদালত নোবেলের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
বাদীর আইনজীবী নাসিদুস জামান নিশান (প্রিন্স) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযুক্ত বাদীর সাথে জামিনের শর্তাবলী লঙ্ঘন করেছেন। তিনি বাদীকে বিয়ে করতে সম্মত হওয়ার পরও জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তা করেননি। টাকাও ফেরত দেননি। তাই আমরা তার জামিন বাতিলের আবেদন করেছিলাম।”
মামলার পটভূমি ও পূর্ববর্তী ঘটনা
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নোবেল এক নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং তাকে বিবাহের প্রলোভন দেখান। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা নেন এবং পরে তা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট মামলাটি দায়ের করা হয়, এরপর আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পিবিআই সাব-ইনস্পেক্টর নুরুজ্জামান ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন, যাতে অভিযোগগুলো সত্য বলে নিশ্চিত করা হয়।
২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, একই আদালত বাদীর সাথে সমঝোতার শর্তে নোবেলকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জামিন দিয়েছিলেন। তবে তিনি শর্তাবলী পালন না করায় আদালত জামিন বাতিল করেন।
গ্রেপ্তার ও অন্যান্য মামলা
২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, আদালত পিবিআই-এর তদন্ত প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে নোবেল, তার মা, স্ত্রী এবং তিনজন অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বটতলা এলাকা থেকে ডেমরা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১৯ মে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে ডেমরা থানায় দায়ের করা আলাদা একটি মামলায় নোবেল গ্রেপ্তার হন। পরে ২০২৫ সালের ২৪ জুন, কারাগারে বাদীকে বিয়ে করার পাঁচ দিন পর তিনি জামিন পান।
এই সর্বশেষ আদেশের মাধ্যমে নোবেলের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া আরও জোরদার হয়েছে, যা অর্থ আত্মসাতের মামলায় তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।



