নাটোরের সিংড়া উপজেলায় এক যুগ পর একমাত্র মেয়ের ঘরে পুত্রসন্তান জন্ম দেওয়ায় নানা মো. হান্নান ব্যতিক্রমী উৎসবের আয়োজন করেছেন। তিনি সাত মাস বয়সি নাতি আব্দুর রহমান বিন মুসালিনকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে ব্যান্ডপার্টির নাচ-গানের তালে তালে পুরো গ্রাম ঘুরিয়ে তিন হাজার পিস মিষ্টি বিতরণ করেন।
ঘোড়ার গাড়িতে গ্রাম ভ্রমণ
বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জোরমল্লিকা গ্রামে এ আনন্দ উৎসব চলে। নানা হান্নান নিজ গ্রাম জোরমল্লিকা থেকে জামাতার বাড়ি শাহবাজপুর পর্যন্ত নাতিকে ঘোড়ার গাড়িতে করে নিয়ে যান। পথে ব্যান্ডপার্টির দল নাচ-গান পরিবেশন করে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পুত্রসন্তান
হান্নান মিয়ার কোনো পুত্রসন্তান নেই। তার একমাত্র মেয়ে পান্না খাতুনকে শেরকোল ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামের মনির হোসেনের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর তাদের ঘরে প্রথমে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। এরপর প্রায় এক যুগ কেটে যায়। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাদের ঘরে পুত্রসন্তান আসে।
নানা হান্নানের আনন্দ
শিশুটির মা পান্না খাতুন বলেন, "আমার প্রথম কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার দীর্ঘ এক যুগ পর আল্লাহ আমাকে পুত্রসন্তান দিয়েছেন। আমার ছেলে হওয়ার আনন্দে বাবা ঘোড়ার গাড়িতে করে পুরো গ্রাম ঘুরে মিষ্টি বিতরণ করে উৎসব করছেন।"
নানা হান্নান মিয়া বলেন, "আমার নিজের কোনো ছেলে নেই। মহান আল্লাহতায়ালা আমার মেয়ের ঘরে একটি নাতি উপহার দিয়ে আমার মনের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ করেছেন। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতেই আমি আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীদের নিয়ে এ আনন্দ ভাগাভাগি করেছি।"



