নাঈমের ঈদ: শাবনাজের হাতের পাঞ্জাবি, বাকরখানি ও হারানো স্মৃতির মিশেল
নাঈমের ঈদ: শাবনাজের পাঞ্জাবি ও স্মৃতির মিশেল

নাঈমের ঈদ উদযাপনে পরিবর্তন: শাবনাজের প্রভাব ও স্মৃতির মিশেল

ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা নাঈমের ঈদ উদযাপনে বিয়ের আগে ও পরে লক্ষণীয় পরিবর্তন এসেছে। শাবনাজের সঙ্গে বিয়ের পর তাঁর ঈদ পেয়েছে নতুন রূপ, যেখানে পারিবারিক ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটেছে। চাঁদরাত থেকেই শুরু হয় আনন্দের ধারা, যখন তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ছাদে ওঠেন চাঁদ দেখার জন্য, প্রতিযোগিতা করেন আগে চাঁদ খুঁজে পেতে। এরপর আত্মীয়দের সঙ্গে আড্ডা ও মেহেদি দেওয়া হয়ে ওঠে চাঁদরাতের মূল আকর্ষণ।

খাবারের প্রতি অনাগ্রহ ও পরিমিতির সন্তুষ্টি

ঈদের দিনের পছন্দের খাবার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেই নাঈম হেসে ফেলেন। তিনি জানান, ‘ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই খাবার নিয়ে কথা বলতে বিশেষ আগ্রহ পাই না। নবাববাড়ির পুরোনো রেওয়াজ এখন আর নেই। বিয়ের পরের ৩০ বছরে বিলাসী কিছুই আমাকে টানে না।’ তিনি আড়ম্বরের বদলে পরিমিতিতে সন্তুষ্টি খুঁজে পান এবং বলেন, ‘যেসব মানুষ অল্পে খুশি, আমি তাঁদের দলে।’

হারানো প্রিয়জনের স্মৃতি ও পরিবারের সঙ্গে সময়

ঈদের সকাল নাঈমের কাছে কেবল উৎসবের সূচনা নয়, বরং বহু স্মৃতির দরজা খোলার মুহূর্ত। এই সময়ে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের কথা তাঁর মনে পড়ে বারবার। ‘একসময় পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খেতাম। এখন অনেকেই নেই, তাঁদের কথা খুব মনে পড়ে। এখন আমার সঙ্গে থাকে দুই মেয়ে আর স্ত্রী। তাদের নিয়েই শুরু হয় ঈদের দিন।’

ঈদের সকালের বিশেষ খাবার: ফিরনি-সেমাই ও বাকরখানি

নামাজে যাওয়ার আগে নাঈমের জন্য বিশেষ খাবার প্রস্তুত হয়। তিনি বলেন, ‘ফিরনি-সেমাই আমার সকালের খাবার। নামাজের আগে এটা খেলে মনে হয় ঈদটা শুরু হলো।’ এরপর তিনি যোগ করেন, ‘বাকরখানি আমার দীর্ঘদিনের পছন্দের খাবার, যা ঈদের সকালের অপরিহার্য অংশ।’ পুরান ঢাকার সঙ্গে তাঁর পুরোনো সম্পর্কের সূত্রেই এই পছন্দ গড়ে উঠেছে। কখনো কখনো দইবড়াও যুক্ত হয় এই তালিকায়, আর সবকিছুই তৈরি করেন স্ত্রী শাবনাজ। নাঈমের ভাষায়, ‘ধৈর্য ধরে একের পর এক নানা পদ সে করে। সেসব যখন একে একে টেবিলে আসে, ঈদের দিনটা যেন পূর্ণতা পায়।’

শাবনাজের হাতের পাঞ্জাবি: ৩০ বছরের ঐতিহ্য

ঈদে নাঈমের জন্য আবেগের আরেকটি বিষয় হলো পাঞ্জাবি। প্রতি ঈদেই নামাজে যাওয়ার আগে সারপ্রাইজ হিসেবে তাঁকে পাঞ্জাবি দেন স্ত্রী শাবনাজ। নাঈম বলেন, ‘বিয়ের পরে কখনোই পাঞ্জাবি কিনিনি। আমার যত পাঞ্জাবি, সব শাবনাজের বানানো। ৩০ বছর ধরে তাঁর বানানো পাঞ্জাবি দিয়ে ঈদ করছি। অভ্যাসটা এখন এমন পর্যায়ে গেছে যে ঈদের দিন পরার জন্য তার বানানো পাঞ্জাবির জন্য অপেক্ষা করি।’

আত্মীয়দের সঙ্গে আড্ডা ও বিশেষ খাবার

ঈদের নামাজ শেষে আত্মীয়স্বজন আসতে শুরু করেন, জমে ওঠে আড্ডা। নাঈম পারিবারিক রেওয়াজ অনুযায়ী মুরব্বিদের সঙ্গে দেখা করেন। দুপুরে আত্মীয়দের নিয়ে আড্ডা ও খানাপিনার মধ্যে পোলাও ও মুরগির রোস্ট তাঁর বিশেষ পছন্দ। ঈদের ছুটিতে নিজের পরিবার ছাড়াও বৃহত্তর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানোই তাঁর কাছে বিশেষ ভালো লাগার বিষয়।

নাঈমের ঈদ উদযাপন তাই শুধু একটি উৎসব নয়, বরং স্মৃতি, ঐতিহ্য ও প্রিয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের এক জীবন্ত দলিল, যা প্রতিবছর নতুন করে আবেগ ও আনন্দে ভরপুর হয়ে ওঠে।