আলোকি কনভেনশন সেন্টারের গ্রিন হাউসে ছিল জমজমাট ভিড়। খুদে পাঠকেরা মা-বাবার হাত ধরে এসেছে প্রিয় কার্টুনিস্টকে কাছ থেকে দেখতে। তাঁর থেকে শিখতে, কীভাবে কার্টুনিস্ট হওয়া যায়? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে উপস্থিত হন জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট মেহেদী হক। তাঁর পরিচালনায় শুরু হয় কার্টুনবিষয়ক একটি প্রাণবন্ত কর্মশালা।
কর্মশালার শুরু
কিশোর আলোর স্বেচ্ছাসেবক আবু তালেব রাফি ও সামিরা জাহানের উপস্থাপনায় কর্মশালার সূচনা হয়। শুরুতেই মেহেদী হক শিশুদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘তোমরা কি খরগোশ আর কচ্ছপের গল্প জানো?’ এরপর তিনি সবাইকে পরিচিত সেই গল্পে নতুন কিছু যোগ করে নিজেদের মতো করে নতুন গল্প লিখতে বলেন।
খুদে পাঠকদের কল্পনার জাদু
এক খুদে পাঠক মজার একটি গল্প শোনায়, ‘খরগোশ আর কচ্ছপ র্যাপ ব্যাটল করল। এত র্যাপ করল যে তারা মহাকাশে চলে গেল!’ আরেকজন বলে, ‘কচ্ছপ এলিয়েনদের সাহায্য নিয়ে টেলিপোর্ট করে জিতে যায়। আর এক জাদুকর খরগোশকে একটি সাইকেল দেয়। খরগোশ সেখানে পৌঁছে দেখে, কচ্ছপ নিজেই এলিয়েনে পরিণত হয়েছে!’
গল্প লেখা শেষ হলে সবাই নিজেদের কল্পনার গল্পকে কার্টুনে রূপ দিতে শুরু করে। এ সময় মেহেদী হক ঘুরে ঘুরে শিশুদের আঁকায় নানা পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন।
পাঠকদের আগ্রহ
কর্মশালার শেষ দিকে পাঠকেরা জানতে চায়, তারা কীভাবে নিজেদের আঁকা কমিকস পাঠাতে পারবে। এ সময় উপস্থিত অভিভাবকদের মধ্যেও কমিকস আঁকার আগ্রহ দেখা যায়। ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা ফাতেমা ইসলাম সুমি, একজন অভিভাবক, জানান যে তিনিও কার্টুন ও কমিকস আঁকতে ও পাঠাতে আগ্রহী।
জবাবে মেহেদী হক বলেন, ‘আমাদের ঢাকা কমিকসের একটি স্লোগান আছে, “অ্যানিওয়ান ক্যান ড্র।” তাই আপনিও অবশ্যই আঁকতে পারবেন। আপনার কাজ আমাদের ই-মেইলে পাঠিয়ে দিন।’
সমাপ্তি
সবশেষে মেহেদী হকের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়েই কার্টুন, কল্পনা আর সৃজনশীলতায় ভরা এই চমৎকার কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে।



