বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন মঙ্গলবার কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানকে অশ্রুভেজা চোখে বিদায় জানিয়েছে। তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছিল।
শ্রদ্ধা নিবেদন
বিকেল থেকে নাট্যকর্মী, অভিনেতা, সাংস্কৃতিক কর্মী ও ভক্তরা ফুল ও অশ্রু নিয়ে জড়ো হন 'মনচোসারথি' নামে পরিচিত এই নাট্যব্যক্তিত্বকে সম্মান জানাতে। তার কাজ বাংলাদেশের স্বাধীনোত্তর নাট্য আন্দোলনকে গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, ছায়ানট ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনসহ শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। শহীদ মিনারের পরিবেশ ছিল নীরব ও স্মৃতিময়, যেখানে রহমানের বাংলা নাটকে অসামান্য অবদানের কথা মনে পড়ছিল।
শ্রদ্ধাঞ্জলি
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, রহমান তার পুরো জীবন শিল্প ও নাটকের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক কর্মী নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, তার নির্দেশনায় নাট্যকর্মীদের প্রজন্ম দিকনির্দেশনা পেয়েছে।
জীবন ও কীর্তি
১৯৪১ সালে নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণকারী আতাউর রহমান স্বাধীনতা-পরবর্তী আধুনিক বাংলাদেশি নাটকের অন্যতম পথিকৃৎ। কয়েক দশক ধরে তিনি 'ওয়েটিং ফর গডো', 'গ্যালিলিও' ও 'ম্যাকবেথ'-এর মতো প্রশংসিত প্রযোজনা পরিচালনা করেন।
একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত রহমান সোমবার ৮৪ বছর বয়সে মারা যান। তার উত্তরাধিকার বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।



