নারায়ণগঞ্জে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষের পর এবার আলোচনায় এসেছে ‘নেতানিয়াহু’ নামে আরেকটি মহিষ। আসন্ন কুরবানি উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার দাসেরগাঁও এলাকার ‘এস এস ক্যাটেল ফার্মে’ অ্যালবিনো জাতের এ মহিষটি প্রস্তুত করা হয়েছে। গোলাপি রঙের মহিষটির ওজন ৭৬০ কেজির বেশি।
নামকরণের কারণ
অদ্ভুত আচরণের কারণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নামের সঙ্গে মিল রেখে এ মহিষের নামকরণ করা হয়েছে। ফার্মের ব্যবস্থাপক মেহেদি জানান, চুলের মাঝে সিঁথির ভাঁজ, চোখের আকার ও উগ্র মেজাজের স্বভাব থাকায় এ মহিষের নাম রাখা হয় ‘নেতানিয়াহু’। ছোট থেকে বড় করা রাখালদেরই গুঁতো দিতে তেড়ে আসে এ মহিষ।
দর্শনার্থীদের ভিড়
মহিষটির খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়তেই খামারে ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও উৎসুক জনতা। দর্শনার্থী রফিক মিয়া বলেন, ফেসবুকে নেতানিয়াহুর নাম শুনে দেখতে এসেছি। মহিষটির আচরণে যুদ্ধ-যুদ্ধ মনোভাব দেখা যায়। ও বেশ ক্ষ্যাপাটে স্বভাবের, সবাইকে গুঁতো দিতে চায়। শুধু আচরণ নয়, এই মহিষের চুল ও চোখের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চুল ও চোখের মিল রয়েছে।
দর্শনার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, মহিষটি এখানে আছে এমন খবর শুনে দেখতে এসেছি। নেতানিয়াহুর মতো মহিষটিও দুষ্টু প্রকৃতির। খামারিরা যখন তাকে খাবার দিতে যায়, সে উল্টো গুঁতো দিতে চায়। শিং নেড়ে সব সময় আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে থাকে। তাকে কেউ আদর করতে চাইলে তাদের দিকেও তেড়ে আসে।
খাবার ও পরিচর্যা
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, নেতানিয়াহুর খাবারের তালিকাও রাজকীয়। ঘাস-ভুষির পাশাপাশি তাকে দেওয়া হয় পুষ্টিকর খাবার। দিনে দুই বেলা গোসল করিয়ে তাকে রাখা হয় ফিটফাট। তবে মেজাজ সব সময় গরম থাকায় খামারের কর্মীরা একটু দূরত্ব বজায় রেখে তার খেয়াল রাখেন।
খামারের কর্মী আল আমিন বলেন, মহিষটির খুব দুষ্টু বুদ্ধি। ওকে আমরা খাবার দিতে গেলেও গুঁতো দেয়, ফোঁস ফোঁস করে। নেতানিয়াহুর চুল ও চোখের আকৃতি যেমন, আমাদের মহিষটাও দেখতে অনেকটা তেমন।
মহিষটির দাম
মহিষটির দাম প্রসঙ্গে ব্যবস্থাপক মেহেদি বলেন, নেতানিয়াহুর দাম সবার নাগালের মধ্যে রয়েছে। ৫৫০ টাকা কেজি দরে লাইভওয়েতে দাম চাওয়া হচ্ছে। আশা করি, খুব শিগগিরই বিক্রি হয়ে যাবে।
খামারের অন্যান্য পশু
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, এ খামারে তিন শতাধিক কুরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন জাতের গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া। সেগুলোর অধিকাংশ বিক্রি হয়ে গেছে, বাকিগুলো বিক্রির পথে।
জেলায় কুরবানির পশুর চাহিদা
এবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় কুরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ তিন হাজার জানিয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, ছয় হাজার ৫৩৫টি খামারে কুরবানিযোগ্য প্রাণী রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার। ওই হিসাবে ১০ হাজার প্রাণী উদ্বৃত্ত আছে।



