গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় বাংলা সাহিত্যের অমর কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈত্রিক ভিটায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘কবি সুকান্ত মেলা ২০২৬’। বুধবার বিকেলে উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে কবি সুকান্ত পাবলিক লাইব্রেরি কাম অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী।
ভোট ডাকাতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী বিগত ১৭ বছরের শাসন আমলকে ‘ফ্যাসিবাদী শোষণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ২০০৮ সালের পর থেকে এ দেশে কোনো সুষ্ঠু বা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়নি। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার নির্বাচনি ব্যবস্থাকে সমূলে ধ্বংস করেছে। দিনের ভোট রাতে করার সংস্কৃতি চালু করে তারা ডিসি, এসপি ও প্রশাসনকে ভোট কাটতে বাধ্য করেছিল।
গোপালগঞ্জের এই অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেশ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। দেশ এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই থেকে তিন মাসের মাথায় সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ
সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মাদকের করাল গ্রাস থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা বহুগুণ বাড়াতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী কবি সুকান্ত পাবলিক লাইব্রেরি কাম অডিটোরিয়াম পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন। আলোচনা সভায় কবির জীবন ও সাহিত্য নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোটালীপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজের প্রভাষক প্রিন্স আহমেদ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া, সাধারণ সম্পাদক ওলিউর রহমান হাওলাদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় কবির প্রতিকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। পরে কোটালীপাড়া উদীচী ও শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মেলার মূল আকর্ষণ হিসেবে মাঠজুড়ে বসেছে গ্রামীণ মেলা, যেখানে লোকজ খাদ্য ও কুটির শিল্পের বাহারি পসরা সাজানো হয়েছে। আগামি ১৫ মে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটবে।



