সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: কৃত্য ছত্রীশরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সৃষ্ট বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সী। ১৯৩২ সালে ‘পথের কাঁটা’ গল্পের মধ্য দিয়ে ব্যোমকেশ বক্সীর যাত্রা শুরু হয়। তবে ব্যোমকেশ ও তার বন্ধু অজিতের পরিচিতি পর্ব থাকার কারণে বই সংকলনে ‘সত্যান্বেষী’ গল্প দিয়ে ব্যোমকেশ সিরিজের প্রথম গল্প সাজানো হয়।
১২ জুন শরদিন্দু বন্দ্যেপাধ্যায় রচিত ‘ব্যোমকেশ বক্সী সমগ্র’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে সিলেট বন্ধুসভা। প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যান্য কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্রের সঙ্গে ব্যোমকেশের প্রধান পার্থক্য হলো ব্যোমকেশ বেশি মানবিক ও বাস্তবধর্মী। তিনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বয়সে বড় হন, বিয়ে করেন এবং পারিবারিক জীবনও গড়ে তোলেন। বুদ্ধিমান, ধীরস্থির, যুক্তিবাদী এবং তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণশক্তির অধিকারী এই গোয়েন্দা নিজেকে গোয়েন্দা না বলে ‘সত্যান্বেষী’ (সত্যের অনুসন্ধানকারী) বলতে পছন্দ করেন; কারণ, তিনি অপরাধীকে শাস্তি নয়, বরং সত্য উন্মোচনে জোর দিতেন। তাঁর কাছে আসা সমস্যাগুলো আমাদের চারপাশের লোভ-লালসার, পারিবারিক কলহ, প্রেম ও ষড়যন্ত্রের মিশ্রণ। অনেক ক্ষেত্রে তাঁর তদন্ত কেবল অপরাধ সমাধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন না, বরং মানুষের মনস্তত্ত্ব ও সমাজের নানা দিকও উন্মোচিত করেন। অপরাধীর মনে অনুশোচনা সৃষ্টি করেন, যা তাঁকে দ্বিতীয়বার অপরাধ করতে বাধা দেবে।
ব্যোমকেশ আবার ছদ্মবেশ ধারণেরও পারদর্শী। বিভিন্ন রহস্য সমাধানে তাঁকে তাই নানা রূপ ধারণ করতে দেখা যায়। ব্যোমকেশের একজন সহকারী ছিলেন—অজিত। তিনি পেশায় একজন সাহিত্যিক, লেখালেখি করে থাকেন। পাশাপাশি ব্যোমকেশকে তাঁর কাজে সহায়তা করেন। তাই অজিত শুধু তাঁর সহকারীই নন, অধিকাংশ কাহিনির বর্ণনাকারীও তিনি।
পাঠচক্র পর্যালোচনায় বন্ধু অম্লান রায় বলেন, উপন্যাসগুলোতে গোয়েন্দা কাহিনির পাশাপাশি জমিদারি ব্যবস্থা, ব্রিটিশ ভারতের সমাজ, মধ্যবিত্ত বাঙালির জীবনধারা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।
বন্ধু অলখ সরকার বইটি থেকে ‘ছলনার ছন্দ’ উপন্যাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বন্ধু সফিউল ইসলাম ‘অগ্নিবাণ’ উপন্যাসটি বিশদ আলোচনা করেন।
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু ফয়সাল আহমেদ, সমীর বৈষ্ণব, কৃত্য ছত্রী, অম্লান রায়, প্রাণেশ দাস, আরাফসহ অনেকে।
ম্যাগাজিন সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা



