আশির দশকের পপ ও রক মিউজিকের গতিপথ বদলে দেওয়া এবং নিজের জাদুকরী ও গম্ভীর কণ্ঠ দিয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করা ওয়েলশ রক সংগীতশিল্পী বনি টাইলার আর নেই। গত ৮ জুলাই পর্তুগালের ফারো শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিতকরণ
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের পক্ষ থেকে এই দুঃখজনক খবরটি নিশ্চিত করা হয়। পারিবারিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তিনি চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আকস্মিকভাবেই শারীরিক জটিলতার কারণে মারা যান।’ উল্লেখ্য, গত মে মাসে পর্তুগালের ফারোতে নিজের বাসভবনের কাছে অন্ত্রের সমস্যার কারণে তার একটি জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়। মাঝে কিছুটা সুস্থতার লক্ষণ দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি বিদায় নিলেন।
জীবন ও সংগীতজীবন
১৯৫১ সালের ৮ জুন দক্ষিণ ওয়েলসের এক কয়লা খনি শ্রমিকের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বনি টাইলার, যার আসল নাম ছিল গেনর হপকিন্স। ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘বনি টাইলার’ মঞ্চনাম বেছে নেওয়ার পর সত্তর ও আশির দশকে তিনি বিশ্বসংগীতের অন্যতম চেনা কণ্ঠস্বরে পরিণত হন। ১৯৭০-এর দশকে গলার ভোকাল নডিউল অপসারণের এক অস্ত্রোপচারের পর তার কণ্ঠে এক অদ্ভুত গম্ভীর ও খসখসে ভাব আসে, যা পরবর্তীতে তার গানের প্রধানতম শক্তি ও সিগনেচার স্টাইলে পরিণত হয়।
১৯৭৭ ও ১৯৭৮ সালের আন্তর্জাতিক হিট গান ‘ইটস আ হার্টঅ্যাক’-এর মাধ্যমে আটলান্টিকের দুই পারেই তার ব্যবসায়িক সাফল্য আসে। তবে গীতিকার ও প্রযোজক জিম স্টেইনম্যানের সঙ্গে তার জুটি ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী জায়গা করে নেয়। ১৯৮৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার আইকনিক গান ‘টোটাল ইক্লিপ্স অব দ্য হার্ট’ বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে টানা চার সপ্তাহ অবস্থান করে এবং যুক্তরাজ্যের সিঙ্গেলস চার্টেও এক নম্বরে জায়গা করে নেয়। নাটকীয় সুর আর বনির আবেগী কণ্ঠের এই গানটি আজও বিশ্বসংগীতের অন্যতম সেরা সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত।
সম্মাননা ও মৃত্যুর পূর্বের মাইলফলক
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের পক্ষ থেকে তাকে সম্মানসূচক ‘মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগেই স্পোটিফাই-এ বনি টাইলারের ‘টোটাল ইক্লিপ্স অব দ্য হার্ট’ গানটি ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) স্ট্রিমের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে।
মৃত্যুকালে তিনি তার ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের জীবনসঙ্গী, সাবেক অলিম্পিক জুডো প্রতিযোগী রবার্ট সালিভানকে রেখে গেছেন।



