বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোনো দল না থাকলেও বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখন সারা দেশে। বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে অদম্য উন্মাদনা। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে একটু ভিন্ন, একটু বেশি আবেগের। কারণ, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়াযজ্ঞের উদ্বোধনী মঞ্চে প্রথমবারের মতো সরাসরি অংশ নিয়েছেন এক বাংলাদেশি। তিনি বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে ও মিউজিক প্রডিউসার সঞ্জয় দেব। দল না থাকলেও এবারই প্রথম কোনো বাংলাদেশের বাঙালির বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ।
বিশ্বকাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্জয় দেব
বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ছেলে বাংলাদেশি-আমেরিকান সঞ্জয় দেব ১২ জুন কানাডার বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হিসেবে সংগীত পরিবেশন করেন বিখ্যাত শিল্পী অ্যালানিস মরিসেট, জেসি রেইয়েজ এবং মাইকেল বুবে। তবে এ আয়োজনে বিশ্বজনীন ও বহুসাংস্কৃতিক আবহ তৈরি করে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছিলেন নোরা ফাতেহি, উইলিয়াম প্রিন্স, ফিলিস্তিনি গায়িকা এলিয়ানা, ফরাসি গায়ক ভেজেদ্রিয়ম এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয় দেব।
পোশাকে বাংলাদেশের প্রতীক
গান গাওয়ার সময় তিনি যে পোশাকটি পরেছিলেন, তাতে ছিল বাংলার বেঙ্গল টাইগার, লাল–সবুজের জাতীয় পতাকা আর জাতীয় ফুল শাপলা। এভাবেই তিনি বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে তুলে ধরেন। গান গাওয়ার সময় তিনি বারবার আঙুল দিয়ে সেগুলো দেখাচ্ছিলেন। তাঁর পোশাকে যে বাংলার প্রতীক, তা বাংলাদেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, দেশপ্রেম ও শিকড়ের প্রতি গভীর টানকে প্রকাশ করেছে। তিনি বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়কে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তাঁর পোশাকের নকশা করেছেন ছায়াকুমার, এমব্রয়ডারি করেছেন জন কিম এবং স্টাইলিং জেসমিন প্যাটেল। তাঁদের গাওয়া গান গ্যালারিভর্তি দর্শক এবং টিভির সামনে বসা কোটি কোটি দর্শক উপভোগ করেন, বিশেষ করে বাংলাদেশিরা সঞ্জয়ের উপস্থিতিতে আবেগাপ্লুত হন। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাঁর গান, তাঁর ছবিসহ বিভিন্ন মন্তব্যে ভরে ওঠে, যার রেশ এখনো কাটেনি।
সঞ্জয় দেবের পরিচিতি
সঞ্জয়ের জন্ম বাংলাদেশে হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা আমেরেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায়। তাঁর জন্ম ১৮ ডিসেম্বর ১৯৯১। সঞ্জয়ের বাবার নাম সন্তোষ দেব, মা মিতা দেব। সঞ্জয় একজন প্রযোজক, ডিজে, মিউজিশিয়ান, মিউজিক ডিরেক্টর এবং মিক্সিং অ্যান্ড মাস্টারিং ইঞ্জিনিয়ার। সঞ্জয়ের সবচেয়ে পরিচিত মিউজিক্যাল পিস হলো ‘শাংরি-লা’ গানটি, যা ইউএস টপ ৪০ এবং ডান্স রেডিওতে তালিকাভুক্ত হয়েছে। ২০১৭ সালে তিনি আমেরিকান আইডল গায়ক এলিয়ট ইয়ামিন সমন্বিত ‘ওবভি’ প্রকাশ করেন। ২০২১ সালে তিনি গট ৭–এর মার্ক টুয়ানের সঙ্গে ‘ওয়ান ইন এ মিলিয়ন’ গান এবং মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করেন। ২০২২ সালে তিনি গুরু রান্ধাওয়ার ব্লকবাস্টার অ্যালবাম ‘ম্যান অব দ্য মুন’-এ পাঁচটি গান রচনা ও প্রযোজনা করেন।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]



