নারায়েলে টিকটক আসক্তি নিয়ে স্ত্রী হত্যা, লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ
নারায়েলে টিকটক আসক্তি নিয়ে স্ত্রী হত্যা

নারায়েলের লোহাগাড়া উপজেলায় টিকটকে আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে এক স্বামী তার স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ বাঁশের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি দাবি করছেন যে স্ত্রীর টিকটক আসক্তি এবং অজানা পুরুষদের সাথে আপত্তিকর ছবি ও কথোপকথন বিনিময় বন্ধ করতে না পেরেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে লোহাগাড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রাম থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায়। নিহত সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) একই গ্রামের লিমন মালিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। লিমন গ্রামে একটি চায়ের দোকান চালান এবং কাঠ কেটে শ্রমিকের কাজ করেন। তবে এর আগে তিনি ঢাকায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতেন, যেখানে সুমনার সাথে তার পরিচয় হয়।

২০২১ সালে ঢাকায় লিমন ও সুমনার বিয়ে হয়। লিমনের এটি দ্বিতীয় বিয়ে, আর সুমনার চতুর্থ বিয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিমন পরে সুমনাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। এতে লিমনের প্রথম স্ত্রীর সাথে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। কিছুদিন পর প্রথম স্ত্রী তাদের একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রংপুরে বাবার বাড়ি চলে যান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যার কারণ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, সুমনা নিয়মিত টিকটকে আপত্তিকর ভিডিও পোস্ট করতেন এবং অজানা পুরুষদের সাথে আপত্তিকর ছবি ও কথোপকথন শেয়ার করতেন। এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে ক্রমাগত ঝগড়া হতো। তবে সুমনা এসব পোস্ট বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

পুলিশের বরাতে জানা যায়, সোমবার সকাল ৮টার দিকে সুমনা আবার ভিডিও পোস্ট করায় লিমনের সাথে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে লিমন তাকে আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে লিমন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং লাশ বাঁশের দেয়ালে ঝুলিয়ে দেয়, যা তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার পরবর্তী অবস্থা

পুলিশ জানায়, লিমন সকাল ১০টার দিকে স্বাভাবিকভাবে কাজে বেরিয়ে যান। সারাদিন কাজ শেষে তিনি বিকেল ৫টার পর বাড়ি ফিরে দরজা খুলে কান্নাকাটি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয় যে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড।

লিমনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরিদর্শক অজিত কুমার রায় বলেন, 'গ্রেপ্তারের পর লিমন স্বীকার করেছে যে সে তার স্ত্রী সুমনাকে হত্যা করেছে এবং ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। সে মূলত সুমনাকে বাড়িতে ঝুলিয়ে রেখেছিল যাতে মনে হয় সে আত্মহত্যা করেছে।' তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।