মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর হৃদয়বিদারক স্বীকারোক্তি: সিনেমা মুক্তির সময় জ্বর আসে
ফারুকীর স্বীকারোক্তি: সিনেমা মুক্তিতে জ্বর আসে

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর হৃদয়বিদারক স্বীকারোক্তি: সিনেমা মুক্তির সময় জ্বর আসে

বাংলাদেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন। এই পোস্টে তিনি তাঁর সৃষ্টিশীল জীবনের একটি গভীর দুঃখজনক ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা উন্মোচন করেছেন, যা চলচ্চিত্র জগতের পেছনের মানসিক সংগ্রামকে ফুটিয়ে তুলেছে।

সিনেমা মুক্তির সময় মানসিক চাপ ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া

ফারুকী তাঁর পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর পরিচালিত যেকোনো সিনেমা মুক্তি পাওয়ার পরপরই তিনি একধরনের তীব্র মানসিক চাপের সম্মুখীন হন। এই চাপ কখনো কখনো শারীরিক প্রতিক্রিয়াতেও রূপ নেয়, যা তিনি তাঁর জীবনের একটি ট্র্যাজিক দিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার জীবনের একটি ট্র্যাজিক দিক আছে। সিনেমা মুক্তির সময় আমার জ্বর এসে যায়।’ এই অবস্থার পেছনে মূল কারণ হিসেবে তিনি ছবি মুক্তির পরপরই আসা তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে দায়ী করেছেন।

তাত্ক্ষণিক সমালোচনা ও এর প্রভাব

নির্মাতা ফেসবুকে আরও লিখেছেন, ‘আমি যখন যে সিনেমাই বানাই, মুক্তি পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাই, এটা কোনো সিনেমাই হয় নাই। ফালতু।’ এই ধরনের কঠোর সমালোচনা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করে এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলস্বরূপ, তিনি ক্ষুণ্ন মন নিয়ে দ্রুত অন্য কাজে মনোযোগ দেন এবং আগের কাজ ভুলে থাকার চেষ্টা করেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চিত্রটি পাল্টে যায় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দেরিতে পাওয়া স্বীকৃতি ও আক্ষেপ

ফারুকী বলেন, ‘প্রায় এক দশক পরে সেই “ফালতু” বলে সমালোচিত সিনেমাগুলোকেই নতুন প্রজন্মের দর্শকেরা “ক্ল্যাসিক” হিসেবে মূল্যায়ন করেন।’ তাঁর উল্লেখ করা চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ব্যাচেলর’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার’, ‘টেলিভিশন’ এবং ‘৪২০’। যদিও এই দেরিতে পাওয়া স্বীকৃতি তাঁকে খুশি করে, তবুও এর প্রভাব নিয়ে তাঁর গভীর আক্ষেপ রয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘মিথ্যা বলব না, ব্যাপারটা ভালো লাগলেও তত দিনে আমার প্রাণশক্তি অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। যে ভালোবাসাটা আগে পাইলে হয়তো আমি শারীরিকভাবে আরও তাজা থাকতাম।’ অর্থাৎ, সময়মতো স্বীকৃতি না পাওয়ায় তাঁর সৃজনশীল শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

নতুন কাজ ও হতাশার ইঙ্গিত

বর্তমানে একটি নতুন চিত্রনাট্যের কাজ করছেন জানিয়ে ফারুকী একটি প্রশ্ন তুলেছেন: তাহলে কি এখন সিনেমা বানিয়ে ১০ বছর ভল্টে রেখে পরে মুক্তি দেওয়া উচিত? যদিও তিনি এটি আংশিক রসিকতা হিসেবেই বলেছেন, তবুও এতে তাঁর হতাশা ও হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। পোস্টের শেষাংশে নির্মাতা স্বীকার করেন যে, তাঁর কাজকে যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের তিনি ভুলে যাননি। বরং তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নতুন কাজের সময় অতীতের অভিজ্ঞতা তাঁকে ভাবায়। ফারুকী লিখেছেন, ‘শিল্পচর্চার মতো সংবেদনশীল কোনো কাজ আর নাই। বিশেষ করে সেটা যদি হয় সিনেমা। আপনি কারও দৃষ্টিতে একটা “খারাপ” কবিতা লিখলে সে আপনাকে মারতে তেড়ে আসবে না। কিন্তু সিনেমা?’ এই কথাগুলো চলচ্চিত্র নির্মাণের জটিলতা ও সমাজের প্রতিক্রিয়ার প্রতি তাঁর গভীর উপলব্ধিকে প্রতিফলিত করে।