রামগোপাল ভার্মার চাঞ্চল্যকর তথ্য: দাউদ ইব্রাহিমের প্রভাব ও বলিউডের উত্তাল সময়
রামগোপাল ভার্মার চাঞ্চল্যকর তথ্য: দাউদ ইব্রাহিমের প্রভাব

রামগোপাল ভার্মার চাঞ্চল্যকর তথ্য: দাউদ ইব্রাহিমের প্রভাব ও বলিউডের উত্তাল সময়

বলিউডের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা রামগোপাল ভার্মা তার অসাধারণ সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য সুপরিচিত। তিনি সবসময় বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা মতামত প্রকাশ করে থাকেন। সম্প্রতি তিনি ৯০-এর দশকের হিন্দি সিনেমার উত্তাল সময়ের কথা স্মরণ করেছেন, যখন মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের গভীর প্রভাব চলচ্চিত্র জগতে বিদ্যমান ছিল।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের সুচিন্তিত কৌশল

ক্রাইম রাইটার হুসেন জাইদির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে রামগোপাল ভার্মা বলেন, আন্ডারওয়ার্ল্ডের কাজগুলো খেয়ালখুশিমতো হতো না, বরং সুচিন্তিত ছিল। গ্যাংস্টাররা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য ভয়কে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করত। তিনি উল্লেখ করেন, যখন আন্ডারওয়ার্ল্ড তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে চাইত, তখন তারা রাকেশ রোশন, সালমান খান এবং শাহরুখ খানের মতো বড় তারকাদের লক্ষ্য করত।

রামগোপাল ভার্মা ব্যাখ্যা করেন, এর উদ্দেশ্য শুধু টাকা উপার্জন ছিল না, বরং এটি ছিল নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতা অর্জনের বিষয়। বড় তারকাদের ভয় দেখিয়ে তারা নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। হৃতিক রোশনের মতো অভিনেতাদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের তারকাদের কাছে পৌঁছানো সহজ ছিল না, তাই ভয় দেখানোই একটি কার্যকর উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাকেশ রোশনের ওপর হামলার পেছনের গল্প

২০০০ সালের জানুয়ারিতে রাকেশ রোশনের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে রামগোপাল ভার্মা বলেন, এটি ‘কহো না... প্যায়ার হ্যায়’ সিনেমার সাফল্যের ঠিক পরেই ঘটেছিল। গ্যাংস্টাররা একটি সিনেমার প্রকল্পের জন্য হৃতিক রোশনের ডেট চাইছিল। পরিকল্পনা ছিল যে সিনেমাটি তৈরি হবে, সামনে অন্য কেউ থাকবে, কিন্তু পর্দার আড়ালে ছোট শাকিল সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে। রাকেশ রোশন অস্বীকার করায় তার ওপর হামলা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০০১ সালের ২১ জানুয়ারি বন্দুকধারীরা রাকেশ রোশনের অফিসের বাইরে তার ওপর হামলা করে, যা প্রতিহিংসামূলক বলে মনে করা হয়। তিনি এ ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান। পরে এক সাক্ষাৎকারে রাকেশ স্মরণ করে বলেছিলেন, বারবার চাপ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি হৃতিকের ডেট দিতে অস্বীকার করেছিলেন এবং সেই সময়টিকে তিনি ভয়ের সময় বলে বর্ণনা করেছিলেন।

গুলশান কুমার হত্যার কারণ

১৯৯৭ সালে গুলশান কুমারের হত্যার বিষয়েও কথা বলেন রামগোপাল ভার্মা। তিনি ঈর্ষা, ক্ষমতার লড়াই ও বিরোধিতার মিশ্র কারণের দিকে ইঙ্গিত করেন। রামগোপাল বলেন, গুলশান কুমারের ক্রমবর্ধমান সাফল্য এবং প্রভাব সম্ভবত তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী এবং বাইরের শক্তিগুলোও এতে ভূমিকা পালন করেছিল। আবু সালেমের মতো লোকেরা এ হত্যাকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের মধ্যে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার একটি উপায় হিসাবে দেখেছিল।

গুলশান কুমার আন্ডারওয়ার্ল্ডের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং তিনি সহজে ভয় পাওয়ার মতো মানুষ ছিলেন না। গুলশান হত্যার ঘটনা স্মরণ করে রামগোপাল ভার্মা আরও বলেন, যখন তিনি এ ঘটনার খবর পান, তখন প্রযোজক ঝামু সুগন্ধের বাড়িতে ছিলেন। এ খবরে তার চারপাশের সবাই হতবাক হয়ে গিয়েছিল।

রামগোপাল ভার্মার এই তথ্যগুলো ৯০-এর দশকের বলিউডের উত্তাল সময়ের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে, যেখানে আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব চলচ্চিত্র শিল্পকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।